Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দার্জিলিং মানেই বাঙালির আবেগ, পাহাড়ের হাওয়া, চায়ের সুবাস আর পুরনো দিনের নস্ট্যালজিয়া (Darjeeling Glenarys)। সেই আবেগের কেন্দ্রে বহু দশক ধরে জায়গা করে নিয়েছে ‘গ্লেনারিজ’। পর্যটকদের কাছে এই রেস্তোরাঁ-বার শুধু খাবার বা বিনোদনের জায়গা নয়, বরং এক ঐতিহ্য দার্জিলিং সফরের অপরিহার্য অংশ। বড়দিন ও নিউ ইয়ারের মতো উৎসবমুখর সময়ে এখানে ভিড় উপচে পড়ে। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই হঠাৎ তালা ঝুলে গেল এই জনপ্রিয় বারের দরজায়।
হঠাৎ কেন বন্ধ হল গ্লেনারিজ? (Darjeeling Glenarys)
পর্যটনের ব্যস্ত মরসুমে, যখন দার্জিলিং ভরে ওঠে দেশ-বিদেশের ভ্রমণার্থীতে, ঠিক তখনই আবগারি দফতর গ্লেনারিজ বারে ৯০ দিনের জন্য ‘সিল’ করার নোটিস দেয়। পুলিশের দাবি, বারে একাধিকবার আবগারি আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। নিয়মিত গানের আসর বসলেও তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাই আইন মেনে কঠোর পদক্ষেপ করাই হয়েছে বলে তাদের ব্যাখ্যা।
আবগারি দফতরের অভিযোগ (Darjeeling Glenarys)
দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বারে লাইভ মিউজিক বা গানের অনুষ্ঠান চলত অনুমতি ছাড়াই, নিয়ম মানা হয়নি মদ পরিবেশন সংক্রান্ত একাধিক নীতিতে, পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে প্রশাসনিক নির্দেশ উপেক্ষা করার প্রবণতা। ফলে ৩ মাসের জন্য বারের কার্যক্রম স্থগিত রাখাই হয়েছে।
‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র ফল এই সিদ্ধান্ত (Darjeeling Glenarys)
গ্লেনারিজের মালিক অজয় এডওয়ার্ড এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পর্যটনের মৌসুমে কোনও কারণ ছাড়াই ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে সদ্য বিতর্ক তৈরি হওয়া এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
বিতর্কের সূচনা (Darjeeling Glenarys)
সম্প্রতি দার্জিলিং সাবডিভিশনের টুংসুং চা বাগানে একটি সেতুর উদ্বোধন করেন অজয় এডওয়ার্ড। সেই সেতুর নাম রাখেন তিনি ‘গোর্খাল্যান্ড’। তাঁর দাবি, গোর্খাল্যান্ডের পৃথক রাজ্যের দাবি আরও জোরদার করতেই এই প্রতীকী নামকরণ। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তরফে তাঁকে কটাক্ষ করা হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সিল করা হয় গ্লেনারিজ। ফলে অনেকে মনে করছেন, এই দুই ঘটনার মধ্যে ‘যোগসূত্র’ থাকতেই পারে।
উৎসবের মরসুমে বড় ধাক্কা
বড়দিনের আগে গ্লেনারিজে তালা পড়া শুধু স্থানীয়দের নয়, পর্যটকদের কাছেও বড় ধাক্কা। কারণ, বড়দিন ও নিউ ইয়ারে দার্জিলিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়, বহু পর্যটকের জন্য গ্লেনারিজে যাওয়াটা একটি ‘রিচ্যুয়াল’-এর মতো, স্থানীয়দের উপার্জনের উপরও প্রভাব পড়বে, বিশেষত যাঁরা এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। গ্লেনারিজের বন্ধ হওয়া দার্জিলিংয়ের সামগ্রিক পর্যটন পরিবেশেই এক অস্থিরতা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: India: যশস্বীর শতরানে সিরিজ জয় ভারতের! রো-কো জুটির কামব্যাকে মান বাঁচল গম্ভীরের
গ্লেনারিজের সিল
গ্লেনারিজ শুধু একটি বার নয় এটি দার্জিলিংয়ের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের অংশ। তাই এর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটক, স্থানীয় মানুষ এবং সংস্কৃতিমনস্কদের মনে হতাশা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তের ফলাফল বা প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে তা এখনই বলা যায় না। তবে নিশ্চিতই বলা যায়, বড়দিনের আগে পাহাড়ের শান্ত, উৎসবমুখর পরিবেশে এই ঘটনাটি এক বড় ছায়া ফেলেছে।



