Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: চিকিৎসকদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২–৩ লিটার জল পান করা উচিত (Dehydration)। পুরুষদের জন্য এই পরিমাণ অন্তত তিন লিটার, আর মহিলাদের জন্য দুই লিটারের বেশি হওয়া প্রয়োজন। তবে ব্যস্ত জীবনযাত্রা, কাজের চাপ কিংবা অবহেলার কারণে অনেকেই দিনের প্রয়োজনীয় পরিমাণ জল পান করেন না।
কোষ্ঠকাঠিন্য (Dehydration)
পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার অন্যতম বড় লক্ষণ হল কোষ্ঠকাঠিন্য (Dehydration)। জল অন্ত্রের মল নরম রাখতে সাহায্য করে। যখন শরীরে জলের অভাব হয়, মল শক্ত হয়ে যায় এবং অন্ত্রের ভেতর দিয়ে তা অগ্রসর হতে অসুবিধা হয়। এতে শুধু হজমে সমস্যা হয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে পাইলস বা হেমোরয়েডের ঝুঁকিও বাড়ে।
গলা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া (Dehydration)
লালারস উৎপাদনে জলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জল কম খেলে লালা কম তৈরি হয়, ফলে গলা ও মুখ শুকিয়ে যায়।
প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া
সাধারণ অবস্থায় প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ বা ফিকে হয়। কিন্তু জল কম খেলে প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ থেকে বাদামি পর্যন্ত হতে পারে। এটি স্পষ্ট সংকেত যে শরীরে জলের ঘাটতি হচ্ছে এবং কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
ত্বকে টান ও শুষ্কতা
জল ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। ডিহাইড্রেশনের ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, ইলাস্টিসিটি কমে যায় এবং চামড়ায় টান পড়তে শুরু করে। ফলে ত্বক প্রাণহীন ও রুক্ষ দেখায়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে ত্বকের বার্ধক্য দ্রুত আসে।

মাথাব্যথা
অনেকেই মনে করেন মাথাব্যথা মানেই অ্যাসিডিটি বা চোখের সমস্যা। কিন্তু জল কম খাওয়াও এর একটি কারণ হতে পারে। মস্তিষ্ক প্রায় ৭৫% জল দিয়ে গঠিত, তাই জল কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে এবং মাথাব্যথা হয়।
পেশীতে ক্র্যাম্প
ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে পেশী সংকুচিত হয়ে ব্যথা বা ক্র্যাম্প হতে পারে। যারা ব্যায়াম করেন বা প্রচুর ঘামেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
মাথা ঘোরা
জলের ঘাটতির কারণে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, ফলে মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা বা ভারসাম্য হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এটি বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে।
আরও পড়ুন: Dev -Subhashree: প্রাক্তনের সাথে দেবের নাচ, ক্ষমা চাইলেন রুক্মিণীর কাছে!
ক্লান্তি ও মনোযোগের অভাব
জল শরীরের প্রতিটি কোষে পুষ্টি ও অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। ডিহাইড্রেশনে এ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে ক্লান্তি বেড়ে যায়, কাজে মনোযোগ থাকে না এবং মানসিক অবসাদও দেখা দিতে পারে। দিনের শুরুতে এক গ্লাস কুসুম গরম জল দিয়ে দিন শুরু করুন।


