Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আর কোনও সংশয় রইল না দিল্লির বুকের রক্তাক্ত বিস্ফোরণের নেপথ্যে সন্ত্রাসবাদই! সোমবারের সেই ভয়াবহ হামলার ২৪ ঘণ্টা পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩-তে (Delhi Blast Revealed)। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ-এর যোগ। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবু প্রাথমিক তথ্য সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভুটান সফর থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “এই সন্ত্রাসের শিকড় পর্যন্ত আমরা পৌঁছব। একটিও চক্রী রেহাই পাবে না।”
তদন্তভার এনআইএ-র হাতে (Delhi Blast Revealed)
হামলার তদন্তভার নিয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, অন্তত ৫০০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে। শাহ নিজে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।
নতুন অডিও বার্তায় আতঙ্ক (Delhi Blast Revealed)
মঙ্গলবারই সামনে আসে এক ভয়ঙ্কর বার্তা। পাকিস্তানের জৈশ প্রধান মাসুদ আজহার-এর ভাই ও সংগঠনের ডেপুটি চিফ আব্দুল রউফ আসগর-এর একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই বার্তায় আসগর বলেন, “আমরা অস্ত্র জোগাড় করে ফেলেছি। তা দিল্লির পথে রওনা দিয়েছে। ভারত যতই প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করুক না কেন, কোনও লাভ হবে না।” এই হুমকি-বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লি বিস্ফোরণে জৈশের সরাসরি যোগের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

নতুন জঙ্গি চক্রের উন্মোচন (Delhi Blast Revealed)
সোমবার রাত থেকেই একের পর এক গ্রেপ্তারি অভিযান শুরু হয়। ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসক! তদন্তে উঠে এসেছে এরা সকলেই কোনও না কোনও ভাবে কাশ্মীরের পুলওয়ামা ও হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল ফালহা ইউনিভার্সিটি-র সঙ্গে যুক্ত। এই চক্রকে গোয়েন্দারা নাম দিয়েছেন “ডক্টর্স মডিউল”। চক্রের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন ডা. শাহিন শাহিদ, যিনি পেশায় মহিলা চিকিৎসক। তাঁর ভাই পারভেজ আনসারি-কেও মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরিদাবাদে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের পর থেকেই শাহিন ও তাঁর ভাই নজরে ছিলেন। এছাড়া, আত্মঘাতী জঙ্গি হিসেবে শনাক্ত হয়েছে উমর মহম্মদ নবি, যিনি এই হামলার সরাসরি বাস্তবায়নকারী বলে ধারণা।
চিকিৎসক উমর মহম্মদ নবি (Delhi Blast Revealed)
সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে সাদা রঙের হুন্ডাই আই-২০ গাড়িটি লালকেল্লার সামনে পার্ক করা ছিল। গাড়ির ভেতরে ছিলেন উমর মহম্মদ নবি, যিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ফরিদাবাদ থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের আগে তিনি দীর্ঘক্ষণ সুভাষ মার্গ এলাকায় গাড়ি থামিয়ে ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, তাঁর লক্ষ্য ছিল গৌরীশঙ্কর মন্দির, যেখানে সোমবার হওয়ায় ভিড় ছিল তুলনামূলক বেশি।

অসম্পূর্ণ হামলার তত্ত্ব (Delhi Blast Revealed)
তদন্তকারীদের অনুমান, এই বিস্ফোরণটি ‘প্রিম্যাচিওর্ড’ বা অকাল বিস্ফোরণ হতে পারে। ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর উমর সম্ভবত হঠাৎ তাড়াহুড়ো করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। গাড়ির পলিউশন সার্টিফিকেট পর্যন্ত আপডেট করিয়েছিলেন তিনি, যাতে রাস্তায় পুলিশের সন্দেহ না হয়। গোয়েন্দাদের ধারণা, সময়ের অভাবে বিস্ফোরকটি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না, তাই প্রত্যাশিত মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ভয় পেয়ে বিস্ফোরণ ঘটালেন উমর? (Delhi Blast Revealed)
অন্য এক তত্ত্ব বলছে, উমর হয়তো আতঙ্কে নিজেই বিস্ফোরণ ঘটান। ফরিদাবাদে একের পর এক জঙ্গি গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর, তিনি বুঝেছিলেন তাঁর পালানোর পথ বন্ধ। পুলিশের নাকা চেকিংও শুরু হয়ে যায়। তখন হয়তো ঘাবড়ে গিয়ে ‘প্যানিক মোডে’ সুভাষ মার্গে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেন তিনি।
দুই ধরনের বিস্ফোরক ও বুলেটের সন্ধান (Delhi Blast Revealed)
ফরেন্সিক দপ্তর বিস্ফোরণস্থল থেকে ৪২টি স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে। তারা দুটি তাজা কার্তুজ এবং দুই ধরনের বিস্ফোরক পেয়েছে , একটির সঙ্গে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-এর মিল থাকলেও, অন্যটি ছিল আরও শক্তিশালী রাসায়নিক। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, হামলার উদ্দেশ্য ছিল বৃহৎ পরিসরের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো, যা সম্পূর্ণ সফল হয়নি।
আরও পড়ুন: Partha Chatterjee: জেল থেকে বেরিয়ে আবেগতাড়িত পার্থ: অনুগামীদের আবেগে ভাসলেন প্রাক্তন মন্ত্রী
বন্ধ লালকেল্লা ও মেট্রো
বিস্ফোরণের পর লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন ও ঐতিহাসিক লালকেল্লা প্রাঙ্গণ বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশের সব প্রধান শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বিশেষত দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই ও হায়দরাবাদে নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত করা হয়েছে।



