Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সাধারণত গৃহস্থ বাঙালি পরিবারে প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়ম করে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা করা হয় (Kojagari Lakshmi Puja)। এদিন ঘরে ঘরে ধূপ-ধুনো, ফলমূল, মিষ্টি, দুধ-দই, নাড়ু-বড়ি প্রভৃতি উপাচার দিয়ে ধন-সম্পদের দেবীকে আহ্বান জানানো হয়।
কোজাগরী পূর্ণিমার তাৎপর্য জানেন! (Kojagari Lakshmi Puja)
আশ্বিন মাসের শেষ পূর্ণিমা তিথিতে পালন করা হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। দুর্গাপুজোর চারদিন পরেই ঘরে ঘরে এই মহাধূমধামের আয়োজন হয়। বাঙালি মনে করে, বছরের এই রাতেই দেবী লক্ষ্মী তাঁদের গৃহে ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্যের বরদান করতে আসেন।
পূজোরর সময়কাল (Kojagari Lakshmi Puja)
লক্ষ্মীপুজো সাধারণত সকাল থেকেই শুরু করা যায়। কিন্তু কোজাগরী পূর্ণিমার বিশেষত্ব হলো, এ পূজা প্রদোষকালে অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পালন করা শ্রেষ্ঠ। এই সময় গৃহস্থ পরিবার জেগে থেকে লক্ষ্মীর আরাধনা করে থাকেন।
কে জেগে আছ? (Kojagari Lakshmi Puja)
কথিত আছে, কোজাগরীর রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে নেমে এসে গৃহস্থকে প্রশ্ন করেন— “কে জেগে আছ?” তাই এই পূজায় রাত জেগে উপবাস ও আরাধনার বিশেষ নিয়ম প্রচলিত। এই বিশ্বাস থেকেই পুজোটির নাম হয়েছে কোজাগরী।
পূজার উপাচার (Kojagari Lakshmi Puja)
এই দিনে ঘরে ঘরে সাজানো হয় ফলমূল, পদ্মফুল, নারকেল, খই, নাড়ু, বড়ি, দই, মিষ্টি প্রভৃতি। পেঁচা বাহিনী পদ্মাসনা লক্ষ্মীর আরাধনায় চারদিক ভরে ওঠে পূজার গন্ধে ও আলোয়।
পুরাণে লক্ষ্মীর উৎপত্তি (Kojagari Lakshmi Puja)
পুরাণে লক্ষ্মীদেবীর জন্ম ও পরিচয় নানা আঙ্গিকে বর্ণিত—
- দেবসেনা রূপে : কিছু পুরাণে বলা হয়েছে, তিনি কার্তিকেয়র পত্নী।
- গণেশ-পত্নী রূপে : অন্য মতে, তিনি গণেশের সহধর্মিণী।
- সরস্বতীর সঙ্গে একাকার : বহু স্থানে লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে একই রূপে গণ্য করা হয়েছে।
- দূর্বাশার অভিশাপ : দূর্বাশা মুনির অভিশাপে লক্ষ্মী ত্রিলোক ত্যাগ করেন।
- সমুদ্রমন্থন : পরে সমুদ্রমন্থনের ফলে রত্নাকর থেকে ‘শ্রী’ নামে এক দেবীর আবির্ভাব ঘটে। শ্রী ও লক্ষ্মী ক্রমে একাকার হয়ে যান।
- ভৃগুকন্যা : আবার এক মতে, লক্ষ্মী ছিলেন ঋষি ভৃগুর কন্যা। তাঁর মায়ের নাম ছিল খ্যাতি।
দেবীর রূপ ও প্রতীক (Kojagari Lakshmi Puja)
লক্ষ্মীর এক হাতে পদ্ম ও অন্য হাতে অমৃতের কলস। তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে দেব-দানব উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, কিন্তু শেষপর্যন্ত তিনি বিষ্ণুর পত্নী রূপে স্বীকৃত হন। পদ্মাসনা এই দেবীর বাহন হলো শুভ্র পেঁচা।
দেবীর জন্মকথা
কথিত আছে, কখনও তুলসী রূপে আবার কখনও ঘোটকী রূপে জন্ম নিয়েছিলেন দেবী। তাঁর আবির্ভাব চিরকাল বাঙালির ঘরে আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Taki Rajbari: কেন এখনও বেয়ারারদের কাঁধেই যাত্রা করেন টাকি রাজবাড়ির দুর্গা?
এক রাতের অতিথি!
হেমন্তের পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলোয় ভেসে ওঠে কোজাগরীর আবেশ। বিশ্বাস করা হয়, দেবী লক্ষ্মী এই রাতেই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে প্রতিটি গৃহে ধন-সম্পদ, শস্য ও সৌভাগ্যের বরদান করে যান। তিনি যেন এক রাতের অতিথি হয়ে বাঙালির হৃদয়ে স্থান নেন।



