Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৪ বছরের সম্পর্ক। সাফল্যের চূড়ায় উঠেছেন আবার কখনও সমালোচনায় ক্ষতবিক্ষত হতে হয়েছে তাঁকে। দিদিয়ের দেশঁ (Didier Deschamps) এবং ফ্রান্সের সম্পর্কটা এমনই এক অদ্ভুত সমীকরণে গাঁথা ছিল। ফ্রান্স রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে, এবার এমবাপ্পেরা যখন এই তকমা ঘুচিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করলেন, তখন মনে হয়েছিল যেন এক নতুন যুগের সূচনা। কিন্তু সেই স্বপ্নভঙ্গ হলো ডালাসে। স্পেনের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের ২-০ গোলের হার কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ফরাসি ফুটবলের একটি স্বর্ণযুগের সমাপ্তিও বলা যায়।
দেশঁ-র সাফল্য (Didier Deschamps)
দেশেঁর (Didier Deschamps) সময়টা ছিল সাফল্যের এক অনন্য সমাহার। একটি বিশ্বকাপ জয়, আরেকটি ফাইনাল, আর ইউরোতেও ধারাবাহিক দাপট ১৪ বছরে পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টের চারটিতেই শেষ চারে ওঠা কোনও সাধারণ সাফল্য নয়। তবুও এক অতৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস রয়েই গেল। এত প্রতিভাবান, তারকাসমৃদ্ধ এক প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরও শিরোপার সংখ্যাটা প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল বলে মনে করেন সমালোচকরা।

রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন (Didier Deschamps)
ডালাসের সেই রাতে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স ছিল এক করুণ আত্মসমর্পণ। ছন্দহীন, লক্ষ্যহীন এক দল যেন তাদের চেনা রূপটাই হারিয়ে ফেলেছিল। ম্যাচ শেষে দেশেঁর কণ্ঠে ছিল গভীর হতাশা। খেলোয়াড়দের ভেঙে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, “আমাদের লক্ষ্য অনেক বড় ছিল, কিন্তু বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে।” রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, পরাজয়ের দায়ভার নিজের কাঁধেই নিলেন এই অভিজ্ঞ কোচ। কোনও অজুহাত নয়, বরং স্পেনের পরিকল্পনা মাফিক ফুটবলের তাদের কৌশলকে ছন্নছাড়া করে দিয়েছিল, তা মেনে নিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: Spain vs France Semifinal: স্প্যানিশ আর্মাডাদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ ফ্রান্সের!
বিদায় দেশঁ! (Didier Deschamps)
স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়াটা হয়তো দেশঁ-এর (Didier Deschamps) জন্য এক নিষ্ঠুর পরিহাস। তবে পরিসংখ্যান বলছে, তিনি ফ্রান্সকে বিশ্ব ফুটবলের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। এই বিদায়বেলায় মাঠের সেই সমালোচকদের গলার স্বর হয়তো খানিকটা স্তিমিত। মাঠের লড়াইয়ে হারলেও, একজন অভিভাবক হিসেবে ১৪ বছরের দীর্ঘ পথচলায় ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের পাতায় রয়ে যাবেন তিনি। একরাশ বিষণ্ণতা নিয়ে আমেরিকার ডালাসের গ্যালারিতে শেষ হলো দেশঁ-র মহাকাব্যিক অধ্যায়। বিদায়, দিদিয়ের দেশঁ!



