Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপিতে কি তবে বরফ গলছে? দীর্ঘদিন ব্রাত্য থাকা দিলীপ ঘোষকে শাহী বৈঠকে ডেকে সেই প্রশ্নই উসকে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Dilip Meets Amit Shah)। কলকাতায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্যের পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি নিছক সৌজন্য নাকি কৌশলগত পুনর্বিন্যাস তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে জল্পনা।

সংগঠন চাঙা করতেই কি এই বৈঠক? (Dilip Meets Amit Shah)
বুধবার সকালে কলকাতার একটি হোটেলে দলের সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন অমিত শাহ। মূল লক্ষ্য—২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। পরবর্তী ধাপে বাছাই করা কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই একযোগে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই বৈঠকেই স্পষ্ট, দল আর বিভাজনের পথে হাঁটতে চাইছে না। বরং ‘এক ছাতার তলায়’ সবাইকে এনে সংগঠনকে চাঙ্গা করাই শাহের মূল বার্তা।

হারানো জমি উদ্ধারে কি তিনিই ‘ট্রাম্প কার্ড’? (Dilip Meets Amit Shah)
দিলীপ ঘোষ যাঁর হাত ধরেই বাংলায় বিজেপির উত্থান সবচেয়ে দৃশ্যমান হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বেই লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই দিলীপই যেন ছিলেন ব্রাত্য। চলতি বছরে মোদি-শাহের একাধিক সভা ও সফরে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় প্রকাশ্যেই অভিমান উগরে দিয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই উপেক্ষা দলের মধ্যেই অস্বস্তি তৈরি করেছিল। কারণ, সংগঠন জানা নেতা হিসেবে দিলীপের গ্রহণযোগ্যতা এখনও তৃণমূল-বিরোধী ভোটব্যাঙ্কে যথেষ্ট। এখন প্রশ্ন উঠছে হারানো সংগঠন ও ভোটব্যাঙ্ক ফেরাতে কি দিলীপ ঘোষই বিজেপির শেষ ভরসা?
শুভেন্দু-সুকান্ত-দিলীপ—নতুন ত্রিমুখী ভারসাম্য (Dilip Meets Amit Shah)
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ হিসেবে বিজেপির প্রধান আক্রমণকারী, সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সেতুবন্ধন, আর দিলীপ ঘোষ সংগঠনের পুরনো রণকৌশলী। এই তিনজনকে এক ফ্রেমে এনে অমিত শাহ কি নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিলেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৬-এর লড়াইয়ে বিজেপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সাংগঠনিক দুর্বলতা, অন্তর্দ্বন্দ্ব, কর্মীদের হতাশা, এই পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষের মতো নেতাকে ফের সক্রিয় না করলে ‘গ্রাসরুট’ শক্ত করা সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা বুঝেই শাহ নিজে উদ্যোগী হয়েছেন।
আরও পড়ুন: Train Accident In Tunnel: টানেলের ভিতরে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষ, উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে রক্তাক্ত রাত
নীরব প্রত্যাবর্তন না বড় দায়িত্ব?
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লেও দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে তাঁর মুখের ভাষা ও শরীরী ভাষা থেকেই ইঙ্গিত তিনি ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে প্রস্তুত। দলের অন্দরের খবর, আগামী দিনে সংগঠন পুনর্গঠন, জেলা স্তরের কর্মসূচি এবং কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে দিলীপকেই।



