Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডিজে মামলায় আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য(DJ Case Abhishek)। আদালতের বিভিন্ন এজলাসে আলাদা করে মামলা করে বিষয়টা ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তদন্তে সহযোগিতা না করলে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। সাফ হুঁশিয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির।
মামলা প্রত্যাহার করে অভিষেকের (DJ Case Abhishek)
কণ্ঠস্বরের নমুনার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলা প্রত্যাহার করে নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। সূত্রের খবর, আদালতের এই হুঁশিয়ারির পর আদালতের নির্দেশ মেনে আগামী ১৫ জুলাই বেলা ১২টায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাবেন অভিষেক। তবে কেউ যেন সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম না ছোড়ে, তা নিশ্চিত করতে আদালতের কাছে আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। আদালত তখন রাজ্য ও পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ডিম ছোড়া বন্ধ হওয়া দরকার।জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। যেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই ঘটনা না ঘটে, রাজ্যকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
ডিজে বাজানোর মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলায় কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শর্তসাপেক্ষে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তদন্ত সবরকম সহযোগিতা করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছিল আদালত। গত শুনানিতে অভিষেকের এখনও পর্যন্ত কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা দিতে না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য(DJ Case Abhishek)। অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনাকে তো রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তারপরও আপনি কেন কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাচ্ছেন না?’
আজ তথা শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে অভিষেকের না যাওয়া নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে তৃণমূল সাংসদকে। না হলে আদালতের তাঁকে দেওয়া রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। বিভিন্ন এজলাসে মামলা করে বিষয়টি ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেফতারিতে আর বাধা থাকবে না সিআইডি-র। বিচারপতির এই হুঁশিয়ারির পরই কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নিলেন অভিষেকের আইনজীবীরা। এদিন আদালত অভিষেকের আইনজীবীর কোনও যুক্তিই গ্রাহ্য করেনি(DJ Case Abhishek)।
এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। বিচারপতি অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনার মক্কেল কি কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবে? সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। তদন্তে সহযোগিতা না করলে আমি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেব। পুলিশ যে নোটিশ পাঠাচ্ছে, তাতে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করুন। না হলে আমি মামলা খারিজ করে দিয়ে জরিমানা করব। রক্ষাকবচের নির্দেশ প্রত্যাহার করব? হ্যাঁ কি না, উত্তর দিন। না হলে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে আসুন(DJ Case Abhishek)।’
অভিষেকের আইনজীবী তখন আদালতকে বলেন, ‘আমার মক্কেল স্বীকার করেছেন, যে সেটা তাঁরই কন্ঠস্বর। আমার মক্কেল এই মন্তব্যের দায়বদ্ধতা স্বীকার করেছেন। গত ২৩ জুন কণ্ঠস্বরে নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা একবারের জন্য দাবি করোনি যে কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার নির্দেশে রক্ষাকবচ রয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশ দেওয়ার সময় আমার মক্কেলের কোনও বক্তব্য শোনা হয়নি। আর আমরা ওই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করেছি।’
তার উত্তরে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য বলেন, তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তেই ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ ধারা অনুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে একাধিক মামলা করার জন্য অভিষেকের আইনজীবীকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন, ‘একই বিষয়ে আদালত একটি নির্দেশ জারি করেছে। তার জন্য আদালত রক্ষাকবচও দিয়েছে। আবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে আপনারা মামলা করলেন। এটা কোন ধরনের পদ্ধতি? আপনারা তো বিচার প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করছেন। আমি পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে। তাই তদন্তকারী সংস্থা যদি কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করাতে চায়, সেটাও আমার ওই নির্দেশেরই অন্তর্ভুক্ত(DJ Case Abhishek)।’
আরও পড়ুন: Hasina Return: ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা
এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতের কাছে স্বীকার করেন যে আদালতের নির্দেশ তাদের বুঝতে ভুল হয়েছিল। তাই তাঁরা মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুমতি চান আদালতের কাছে(DJ Case Abhishek)। তবে এই কণ্ঠস্বরের নমুনা যেন অন্য মামলায় ব্যবহার করা না হয়, শুধুমাত্র এই মামলার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন অভিষেকের আইনজীবী। যদিও এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও মন্তব্য করেনি আদালত।



