Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে আন্তর্জাতিক মহলে তৎপরতা বাড়লেও মস্কো ও কিভের অবস্থান এখনও অনড়(Russia Ukraine War)। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে। তবে রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট রূপরেখা না হলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রথম বৈঠকে আলোচনা সম্ভব নয়।
লাভরভের কড়া বার্তা (Russia Ukraine War)
রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ শুক্রবার জানিয়েছেন, শীর্ষ বৈঠকের আগে যুদ্ধবিরতির রূপরেখা তৈরির কাজ শেষ হওয়া জরুরি(Russia Ukraine War)। তাঁর কথায়, “এই মুহূর্তে সেই কাজ একটুও এগোয়নি। ফলে প্রথম বৈঠকে যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে জেলেনস্কি একটি ডিক্রি জারি করে রাশিয়া-ইউক্রেন শীর্ষ বৈঠক ‘নিষিদ্ধ’ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত সেই ডিক্রি প্রত্যাহার করা হয়নি।
ইউক্রেনের পাল্টা অবস্থান (Russia Ukraine War)
লাভরভের বক্তব্যের জবাবে ইউক্রেনের উপ-বিদেশমন্ত্রী সের্গি কিসলিৎসকা বলেন, “আলোচনা যদি হয় তবে তা ভূখণ্ডের বদল নিয়েই হবে।” এমন মন্তব্য রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের ভবিষ্যৎ সমাধানকে আরও কঠিন করে তুলল বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
পুতিনের তিন শর্ত (Russia Ukraine War)
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, ১৫ অগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজের শর্তগুলি স্পষ্ট করেছেন পুতিন। তাঁর তিনটি মূল দাবি—
- ক্রাইমিয়া ও ডনবাস অঞ্চল রাশিয়ার দখলে থাকবে।
- ইউক্রেনকে ন্যাটো-তে প্রবেশাধিকার দেওয়া যাবে না।
- ইউক্রেনের মাটিতে ইউরোপ বা আমেরিকার সেনা ঢুকতে পারবে না।

আমেরিকার সক্রিয় ভূমিকা (Russia Ukraine War)
আলাস্কার বৈঠকের পরে জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দু’দফায় আলোচনা করেন(Russia Ukraine War)। পরে ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, ইতালি, ব্রিটেন, জার্মানি সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে ট্রাম্প (Donald J. Trump) নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, তিনি পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ক্রেমলিনের প্রশ্নচিহ্ন (Russia Ukraine War)
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। রাশিয়ার দাবি, এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা হয়নি। ফলে জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলের মূল্যায়ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনার পথে প্রধান বাধা হল ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা ইস্যু। পুতিন নিজের অবস্থান নরম করতে রাজি নন, অপরদিকে ইউক্রেনও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও ছাড় দেবে না। তাই আসন্ন বৈঠক হলেও যুদ্ধবিরতির সুনির্দিষ্ট সমাধান এখনই আশা করা যাচ্ছে না।


