Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের পাশাপাশি ডাউন রয়েছে সমস্ত সেক্টরাল ইনডেক্সের (Sensex and Nifty50)।
সকাল থেকেই পতন স্টক মার্কেটে (Sensex and Nifty50)
যুদ্ধের ক্ষতে প্রলেপ পড়ার থেকে বেশি গভীর হচ্ছে ক্ষত। সেই রক্তক্ষরণ যেন কিছুতেই থামছে না। আগের সপ্তাহের শেষ দুই ট্রেডিং সেশনে পয়েন্ট কোমর পর আশঙ্কা ছিল এই সপ্তাহেও ডাউন স্টার্টের। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। শেষ ক্লোজিংয়ের তুলনায় কম পয়েন্টে ওপেনিং হয়েছে দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের। অর্থাৎ সেনসেক্স এবং নিফটি৫০ কমেছিল ১ শতাংসঘের বেশি। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরও বাজার খোলার পর থেকে ডাউনে রয়েছে। এর ফলে লগ্নিকারীদের পড়তে হচ্ছে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে (Sensex and Nifty50)।
সোমবার সেনসেক্স কমেছিল ১০৪২ পয়েন্ট বা ১.৩৩। এর জেরে এই সূচক নেমেছিল ৭৬,২৮৫ পয়েন্টে। অন্যদিকে নিফটি৫০ কমেছিল প্রায় ৩০৯ পয়েন্ট বা ১.২৮ পয়েন্ট। এর জেরে এই সূচক নেমেছিল ২৩,৮৬৬ পয়েন্টে।
দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের পাশাপাশি দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সমস্ত সেক্টরাল ইনডেক্সই ডাউন রয়েছে সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট কমেছে ট্যুরিজম, রিয়েলটি, মিডিয়া, পিএসইউ ব্যাঙ্ক, অটো, এনার্জি, অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের মতো সেক্টরাল ইনডেক্সের। তুলনামূলক আইটি, এফএমসিজি, ফার্মার মতো সেক্টরাল ইনডেক্সের পতনের পরিমাণ কম (Sensex and Nifty50)।
দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের পাশাপাশি দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সমস্ত সেক্টরাল ইনডেক্স ডাউন রয়েছে সোমবার সকাল থেকে। এর মধ্যে ট্যুরিজ়ম, রিয়েলটি, মিডিয়া, পিএসইউ ব্যাঙ্ক, অটো, এনার্জি, অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের মতো সেক্টরাল ইনডেক্সের পয়েন্ট কমেছে সবচেয়ে বেশি। তুলনায় আইটি, এফএমসিজি, ফার্মার মতো সেক্টরাল ইনডেক্সের পতন হয়েছে কম। সপ্তাহের শুরুতেই এই করুণ হালের জন্য একাধিক ফ্যাক্টরকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কী কী কারণে পতন স্টক মার্কেটের
১) পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির আঁচ এখন সর্বত্র। ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনা এখনও অনিশ্চিত। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমার কোনও ইঙ্গিত নেই। এর কারণে অনিশ্চিয়তা বেড়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরেও। ইরান শান্তি প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্পের মন্তব্যে উত্তেজনা প্রশমনের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এর কারণে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে।
২) ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে। ফের ব্যারেল পিছু দাম উঠে গিয়েছে ১০০ ডলারের উপরে। ভারত তেল আমদানিকারক দেশ। ফলে এই দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা। যা আর্থিক ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলবে। এই কারণেই তেলের দামের উত্থানের কারণে পতন হয়েছে দুই সূচকের।
৩) সোমবার মার্কিন ডলারের তুলনায় দুর্বল হয়েছে ভারতীয় মুদ্রা। টাকা দুর্বল হলে লগ্নিকারীদের রিটার্নও কমে যায় আর বেড়ে যায় আমদানি খরচ। এর কারণে নেতিবাচক সেন্টিমেন্ট তৈরি হয়েছে বাজারে (Sensex and Nifty50)।
৪) বেশ কিছুদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বিদেশি লগ্নিকারীরা ইনভেস্টমেন্ট সরিয়ে নিচ্ছেন বাজার থেকে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চিয়তা বাড়লে সাধারণত নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকে। এর ফলে চাপ বাড়ছে ভারতীয় বাজারে।
আরও পড়ুন: Political Vow: তৃণমূল সরকারের পতনের পর প্রতিজ্ঞা পূরণ, চুল-দাড়ি কেটে ন্যাড়া হলেন সিপিআইএম কর্মী
৫) রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পেট্রল ও ডিজেলের সাশ্রয় করার আহ্বান করেছেন। বার্তা দিয়েছেন এর ব্যবহার কমানোর। এমনকি তিনি পরামর্শ দিয়েছেন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোমের’। তাঁর কথায় বৈদিশিক মুদ্রা সাশ্রয় যে গুরুত্বপূর্ণ সেটাও তাঁর বার্তায় স্পষ্ট। এমনকি তিনি এক বছর সোনা না কেনার আর্জি জানিয়েছেন দেশবাসীর উদ্দেশ্যে। এর প্রভাবে বাজারের সামগ্রিক সেন্টমেন্ট দুর্বল হয়েছে (Sensex and Nifty50)।
(শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কোনও মত আমাদের নেই, এই লেখাটা শুধু তথ্যের জন্য। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তাই বিনিয়োগ করার আগে মার্কেট সম্পর্কে ভাল করে জেনে নেওয়া দরকার। তাছাড়াও বিনিয়োগের আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।)


