Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগ-এর এক আবেদনে সায় দিয়ে নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে (Donald Trump)। সেই আদেশের ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পাসপোর্ট নীতি অবিলম্বে কার্যকর হতে চলেছে। এই নীতিটি কার্যত ১৯৯২ সাল থেকে প্রচলিত এক মানবিক প্রথাকে উল্টে দিচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চিকিৎসাগত প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গ থেকে ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয় পাসপোর্টে উল্লেখ করার অনুমতি দিত। কিন্তু নতুন নীতিতে বলা হয়েছে পাসপোর্টে লিঙ্গ উল্লেখ করতে হবে জন্মসনদে থাকা লিঙ্গ অনুযায়ী। অর্থাৎ, এখন থেকে কেবল দুটি বিকল্প ‘পুরুষ’ ও ‘মহিলা’। তৃতীয় কোনও বিকল্প (যেমন X বা ননবাইনারি) থাকবে না।

লিবারেল বিচারপতিদের বিরোধিতা (Donald Trump)
সুপ্রিম কোর্টের তিনজন লিবারেল বিচারপতি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মতে, এই রায় নাগরিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের অধিকারের পরিপন্থী। রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতার (৬–৩) কারণে তাঁদের মতামত গুরুত্ব না পেলেও, এটি আমেরিকান বিচারব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক অবস্থান হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বাইডেন যুগে পাসপোর্টে ছিল মুখ্য (Donald Trump)
২০২১ সালে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে পাসপোর্ট ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনেন। তাঁর প্রশাসনের নীতিতে আবেদনকারীরা কোনও চিকিৎসাগত নথি ছাড়াই নিজেদের পছন্দমতো পরিচয় দিতে পারতেন ‘পুরুষ’, ‘মহিলা’ বা ‘এক্স (X)’। এই X বিকল্পটি ছিল ননবাইনারি, ইন্টারসেক্স ও জেন্ডার নন-কনফর্মিং নাগরিকদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
কেবল দুটি লিঙ্গ (Donald Trump)
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ট্রান্সজেন্ডার আমেরিকানদের অধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। তাঁর সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, মার্কিন সরকার কেবলমাত্র দুটি লিঙ্গ ‘পুরুষ’ ও ‘মহিলা’ কেই স্বীকৃতি দেবে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় “একটি মিথ্যা”। এর আগেও, এ বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেনাবাহিনীতে ট্রান্সজেন্ডার সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল। এর পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ট্রান্সজেন্ডারদের ‘দ্যুডস ইন ড্রেসেস’ বলে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল প্রভাব স্পষ্ট (Donald Trump)
বর্তমান ৬–৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রায় সব বিতর্কিত নীতির পক্ষে রায় দিয়েছে। নিম্ন আদালতে আটকে থাকা নীতিগুলির প্রায় সবই এখন কার্যকর হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা চলতে থাকলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার নীতিতে এক যুগান্তকারী পশ্চাদপসরণ ঘটবে।

অন্ধকার অধ্যায় শুরু (Donald Trump)
বহু মানবাধিকার সংগঠন এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের জেন্ডার স্বাধীনতার ইতিহাসে এক “অন্ধকার অধ্যায়” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা আশঙ্কা করছে, নতুন নীতির ফলে হাজার হাজার ট্রান্সজেন্ডার নাগরিক সরকারি নথি সংগ্রহ, বিদেশ ভ্রমণ, চাকরি কিংবা নাগরিক পরিচয় রক্ষায় মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়বেন।
আরও পড়ুন: 6 November Horoscope: বিশাখা নক্ষত্রের প্রভাবে ভাগ্য খুলবে কাদের?
চলমান মামলা ও ভবিষ্যৎ লড়াই
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একটি যৌথ মামলা চলমান। মামলাকারীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি শুধু ট্রান্সজেন্ডার নয়, বরং সকল নাগরিকের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও সংবিধান-স্বীকৃত স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা আগামী বছর মার্কিন আদালত ব্যবস্থায় নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।



