Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) ওড়িশার এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে রেলভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার (DRDO Launch Agni Prime) ব্যবহার করে অগ্নি-প্রাইম (Agni-Prime) ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে DRDO একটি “গেম চেঞ্জার” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সাফল্য ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কী এই রেলভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার? (DRDO Launch Agni Prime)
রেলভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার মূলত বিশেষভাবে তৈরি ট্রেনে বসানো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা(DRDO Launch Agni Prime)। স্থির সাইলো বা বাঙ্কারের তুলনায় এই ব্যবস্থা অনেক বেশি সুরক্ষিত ও কার্যকর, কারণ এটি দেশের বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্কের ভেতর দিয়ে সহজেই সরানো যায়।
- এই প্ল্যাটফর্ম চলাচলের সময় সাধারণ যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে মিশে থাকতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে সহজে শনাক্ত করা কঠিন হয়।
- এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ব্যবস্থা, যেখানে আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি, সুরক্ষা প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন উৎক্ষেপণ ক্ষমতা বিদ্যমান।
- রেল এবং সড়ক—দুই ব্যবস্থার সমন্বয়ে এই কৌশল ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়াবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও জটিল ও অদৃশ্য করে তুলবে, যা প্রতিপক্ষের নজরদারিকে কঠিন করে দেবে।
অগ্নি-প্রাইম ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য (DRDO Launch Agni Prime)
অগ্নি-প্রাইম হল অগ্নি সিরিজের একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা মাঝারি পাল্লার আঘাত হানতে সক্ষম(DRDO Launch Agni Prime)।
- এর উন্নত ন্যাভিগেশন সিস্টেমে রিং লেজার জাইরো ভিত্তিক INS এবং মাইক্রো INS ব্যবহার করা হয়েছে।
- GPS এবং NavIC স্যাটেলাইটের সাহায্য নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
- এর ক্যানিস্টারাইজড ডিজাইন ক্ষেপণাস্ত্রকে সহজে পরিবহন ও সংরক্ষণের সুযোগ দেয়, যা দ্রুত উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া সম্ভব করে।
- উচ্চ নির্ভুলতায় আঘাত হানার ক্ষমতা থাকায় এটি ভারতের প্রতিরক্ষা ভাণ্ডারে একটি নির্ভরযোগ্য অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন : 5th Gen Fighter Jet : এলএন্ডটি এবং বিইএল-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হবে ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া (DRDO Launch Agni Prime)
পরীক্ষার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, “মিসাইলের গতিপথ বিভিন্ন স্থল স্টেশনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সমস্ত মিশন উদ্দেশ্য সফলভাবে পূর্ণ হয়েছে(DRDO Launch Agni Prime)। এটি ভারতের ভবিষ্যৎ রেলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিষেবায় অন্তর্ভুক্তির পথ প্রশস্ত করবে।”
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং DRDO-কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “রেলভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার থেকে এই প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করল। এর ফলে অল্প সময়ে এবং কম দৃশ্যমানতায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে।”
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান(DRDO Launch Agni Prime)
রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলিও ইতিমধ্যেই রেলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ব্যবস্থা তৈরি করেছে(DRDO Launch Agni Prime)। এবার ভারতও একই কৌশল প্রয়োগ করে নিজেদের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবস্থানকে আরও মজবুত করছে।
ভারতের বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী এখন আরও গতিশীল, গোপনীয় এবং শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এর ফলে দেশের দ্বিতীয় প্রতিশোধমূলক ক্ষমতা (Second-Strike Capability) আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভারত একটি আত্মনির্ভর পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে তার অবস্থান মজবুত করবে।


