Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেবী দুর্গা শুধু শক্তির প্রতীক নন, তিনি সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নানা রূপে আবির্ভূতা হন (Durga Puja 2025)। পুরাণ ও শাস্ত্রে দেবীকে কখনও তিনি শান্তা, কখনও মাতৃমূর্তি, আবার কখনও তিনি ভয়ঙ্কর মহিষাসুরমর্দিনী রূপে চিত্রিত। মার্কণ্ডেয় পুরাণের দুর্গাসপ্তশতী বা চণ্ডী গ্রন্থে দেবীর দশভুজা রূপের পাশাপাশি চামুণ্ডা, কালী, ভদ্রকালী, জয়া, বিজয়া প্রভৃতি বিভিন্ন রূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রতিটি রূপই নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে অসুরদমন, সৃষ্টির রক্ষা কিংবা ভক্তের কল্যাণ এই উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়।

দেবীর বহুরূপী উপস্থিতি (Durga Puja 2025)
দেবী দুর্গার নানা রূপের সমৃদ্ধ বর্ণনা রয়েছে। মঙ্গলকাব্যে দুর্গার মাতৃমূর্তির বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি দেবতাদের আশ্রয় ও ভক্তদের রক্ষাকর্ত্রী। আধুনিক বাংলার কবিতায়ও দুর্গা কখনও গ্রামীণ কন্যা, কখনও জাগ্রত শক্তি, কখনও আবার সমাজ পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হিসেবে উঠে এসেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে জীবনানন্দ দাশ সবাই কোনো না কোনোভাবে দুর্গার রূপকে নিজেদের কাব্যে রূপ দিয়েছেন।
সমকালীন শিল্পীর চোখে দুর্গার রূপ (Durga Puja 2025)
২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে দেবী দুর্গার এই বহুরূপী ব্যাখ্যাকে নতুনভাবে অনুধাবন করেছেন লেখক ও সম্পাদক রাজর্ষি ধাড়া (Rajarshi Dhadha)। তিনি শুধু লেখক নন, শিল্পীও। ছবি আঁকাই তাঁর অন্যতম শখ। দুর্গাপূজার আগে শত-দিনের কাউন্টডাউন উপলক্ষে প্রতিদিন একটি করে দেবীর ছবি আঁকার চ্যালেঞ্জ তিনি নিয়েছিলেন। তাঁর মতে,

"একটা কনসিস্টেন্স রাখা, প্রতিদিন একটি করে ছবি আঁকা, এটি ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এর ভেতর দিয়েই আমি দেবীর ভিন্ন ভিন্ন রূপ অন্বেষণ করেছি।"
শত দিনের শিল্প-যাত্রা (Durga Puja 2025)
রাজর্ষি ধাড়ার এই শত দিনের শিল্পকর্ম শুধু দেবীচিত্র নয়, সময়ের দলিলও বটে। গত শত দিনে সমাজে নানা ভয়, না-পাওয়া, ভাঙাগড়া, অস্থিরতা আর ক্ষতির মধ্য দিয়ে মানুষ এগিয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রতিটি অভিজ্ঞতার ভেতরেই দেবীর কোনও না কোনও রূপ প্রতিফলিত। কখনও তিনি রক্ষাকর্ত্রী, কখনও প্রতিবাদের শক্তি, আবার কখনও গভীর মমতার প্রতীক।
স্মরণীয় হয়ে ওঠা ১০০ দিন (Durga Puja 2025)

এই শত দিনের শিল্পকর্ম আসলে একটি “পুজোর ডায়েরি”। ধীরে ধীরে যখন শহর ও গ্রাম বাংলায় পুজোর আমেজ জমে উঠছে, তখন এই ১০০ দিনের পথ চলা একদিকে ব্যক্তিগত সৃজনপ্রক্রিয়া, অন্যদিকে সমষ্টিগত স্মৃতির অংশ। দেবীর রূপকে কেন্দ্র করে তিনি শিল্প ও সাহিত্যকে একসূত্রে বেঁধেছেন, নিজের শিল্পের মধ্যে।

শেষে বলা যায় (Durga Puja 2025)
শাস্ত্র, সাহিত্য ও সমকালীন শিল্পের ভেতর দিয়ে দেবী দুর্গা আজও বহুরূপে বর্তমান। রাজর্ষি ধাড়ার শিল্পচর্চা দেখায়, দেবীর রূপ কেবল পুরাণের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ নয়, তা প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ভেতরেও বেঁচে থাকে। ভয়, দুঃখ, আশা আর আনন্দের সমন্বয়েই তিনি জাগ্রত হন চিরন্তন শক্তি ও অনুপ্রেরণা হয়ে।
বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করে রাজর্ষি ধাড়া তা নিজের লেখায়, আঁকায় এবং শিল্পের অনুশীলনে বাঁচিয়ে রেখেছেন। সাহিত্য, নাটক ও চিত্রকলার সমন্বয়ে তিনি এক নতুন ধারা গড়ে তুলেছেন। তাঁর লেখা নাটক “বাক্সবন্দী” ইতিমধ্যেই দর্শকদের মন কেড়েছে। আসন্ন শো-তে আপনিও চাইলে উপস্থিত থাকতে পারেন নিশ্চয়ই নিরাশ হবেন না।
আরও পড়ুন: Durga Puja 2025 Shasthi: কেন মহালয়া নয়, ষষ্ঠীর বোধনেই শুরু হয় দুর্গাপুজো?

নির্দেশনায়: রাজর্ষি ও টিম বাক্সবন্দী
- তারিখ: ৮ অক্টোবর, ২০২৫
- স্থান: গিরিশ মঞ্চ
- সময়: সন্ধ্যা ৬টা



