Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
সোমবার ভোররাতে আচমকাই প্রবল কম্পনে ঘুম ভাঙে অসমবাসীর (Earthquake)। ভোর ৪টা ১৭ মিনিট নাগাদ অনুভূত হয় ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি। অসমের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও এই কম্পন টের পাওয়া যায়। আচমকা এই ভূমিকম্পে বহু জায়গায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দাই নিরাপত্তার খোঁজে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

রিখটার স্কেলে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প (Earthquake)
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি -এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.১। মাঝারি মাত্রার হলেও গভীর রাতে হওয়ায় কম্পনের প্রভাব ছিল বেশ স্পষ্ট। বিশেষত বহুতল ও পুরনো বাড়িগুলিতে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে আতঙ্কের মাত্রা ছিল বেশি।
মরিগাঁওয়ে উৎসস্থল, গভীরতায় ছিল কম্পন (Earthquake)
এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল অসমের মরিগাঁও জেলা। NCS জানিয়েছে, কম্পনের উৎস মাটির প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। ভূমিকম্পের গভীরতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কমলেও, বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে কয়েক সেকেন্ড ধরে।
বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব (Earthquake)
মরিগাঁওয়ের পাশাপাশি গুয়াহাটি, নগাঁও এবং মধ্য অসমের একাধিক এলাকায় ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যায়। অনেক জায়গায় ঘরের আসবাব কেঁপে ওঠে, ঝুলন্ত জিনিসপত্র দুলতে থাকে। ভোররাতের নিস্তব্ধতায় এই কম্পন মানুষের মধ্যে আরও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

কপিলী ফল্ট লাইনের সংবেদনশীলতা (Earthquake)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘কপিলী ফল্ট লাইন’ এলাকায়। এই ফল্ট লাইনটি উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম সক্রিয় ভূকম্পন প্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পের নজির রয়েছে, যার ফলে বিজ্ঞানীরা বরাবরই এই এলাকার উপর কড়া নজর রাখেন।
ভূমিকম্পপ্রবণ উত্তর-পূর্ব ভারত (Earthquake)
উল্লেখযোগ্যভাবে, অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারত গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফলে এই এলাকায় ঘনঘন ভূমিকম্প ঘটে। তাই তুলনামূলক মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও এখানে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সতর্ক প্রশাসন (Earthquake)
এই ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী গোটা পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখছে। প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে জরুরি পরিষেবাগুলিকেও।

আরও পড়ুন: TMC Leader: তৃণমূল নেতার টেবিলে টাকার পাহাড়! নিমেষে ভাইরাল ভিডিও!
সতর্কতা ও সচেতনতার প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভূমিকম্প উত্তর-পূর্ব ভারতের বাস্তবতা। তাই ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশা, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত মহড়া অত্যন্ত জরুরি। ভোরের এই কম্পন ফের একবার মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির শক্তির কাছে মানুষ কতটা অসহায় এবং প্রস্তুতিই পারে বড় বিপদ এড়াতে।



