Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একটি সমাজের সুস্থতা অনেকাংশেই নির্ভর করে তার যুবসমাজের মানসিক ও শারীরিক অবস্থার উপর (Raiganj)। অথচ উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মহকুমায় গত পাঁচ বছরে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা গভীর উদ্বেগের। ২০২০ সালে যেখানে একটি মাত্র নেশামুক্তি কেন্দ্র ছিল, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬-এ। এই বিস্তার নিছক উন্নয়ন নয়, বরং সমাজে ছড়িয়ে পড়া এক ভয়াবহ ব্যাধির নীরব স্বীকৃতি ব্রাউন সুগারের নেশা।
প্রয়োজনহীন নেশামুক্তি কেন্দ্র (Raiganj)
২০২০ সালের আগে রায়গঞ্জ শহরে কোনও স্থায়ী নেশামুক্তি কেন্দ্র ছিল না। কারণ তখন নেশাগ্রস্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে নগণ্য। হাতে গোনা কয়েকটি ক্ষেত্রে আসক্তদের পাঠানো হতো শিলিগুড়ি কিংবা কলকাতার রিহ্যাব সেন্টারে। স্থানীয় স্তরে পরিকাঠামোর প্রয়োজন তখন অনুভূত হয়নি। কিন্তু সেই ছবিটাই বদলে যায় খুব দ্রুত।
ব্রাউন সুগারের কালো ছায়া (Raiganj)
২০২০ সালের পর থেকেই শহর ও শহরতলি এলাকায় ব্রাউন সুগারের কারবার অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে যুবসমাজের উপর। স্কুলপড়ুয়া কিশোর থেকে কলেজ ছাত্র, এমনকী তরুণীরাও এই নেশার কবলে পড়ে। ‘মজার ছলে’ শুরু হওয়া নেশা অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ আসক্তিতে রূপ নেয়। ফলস্বরূপ সমাজে বাড়তে থাকে ভাঙা পরিবার, অপরাধপ্রবণতা ও মানসিক বিপর্যয়।
নেশামুক্তি কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি (Raiganj)
নেশাগ্রস্তদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার চাপে ২০২০ সালে রায়গঞ্জ শহরে প্রথম নেশামুক্তি কেন্দ্র গড়ে ওঠে। এরপর মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে মহকুমা জুড়ে গড়ে উঠেছে ১৬টি রিহ্যাব সেন্টার, যার মধ্যে আটটি শহর এলাকায়। প্রতিটি কেন্দ্রেই যুবকদের ভিড় লক্ষণীয়, বাদ নেই কিশোর-কিশোরীরাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, রিহ্যাব সেন্টারের এই বিস্তার আসলে সমাজে নেশার গভীর শিকড়েরই ইঙ্গিত।
চিকিৎসা পদ্ধতি ও পুনর্বাসনের লড়াই (Raiganj)
বর্তমানে এই কেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে ‘ডিটক্সিফিকেশন’ ও ‘রিহ্যাবিলিটেশন’ এই দুই ধাপে চিকিৎসা চলছে। শরীর থেকে নেশার প্রভাব দূর করার পাশাপাশি মানসিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে রোগীদের সমাজের মূলস্রোতে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে পুনরায় নেশায় না জড়ানোর দিকেও নজর রাখা হয়। তবুও বাস্তবতা কঠিন চিকিৎসার পরেও প্রায় ৪০ শতাংশ যুবক ফের নেশার জগতে ফিরে যাচ্ছে।
আশার আলো নিভে গেল কেন? (Raiganj)
২০২৩ সালে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার উদ্যোগে চালু হয়েছিল ‘সুদ্ধি’ প্রকল্প। প্রতিটি থানায় একজন করে নোডাল অফিসার নিযুক্ত করা হয়, যাঁরা নেশামুক্তি কেন্দ্রগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের নেশাগ্রস্ত যুবক-কিশোরদের চিকিৎসার খরচ বহন করা। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ফান্ডের অভাব দেখিয়ে এই উদ্যোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার ফল আজ স্পষ্ট অনেক পরিবারই আর সন্তানকে রিহ্যাব সেন্টারে পাঠাতে পারছে না।
আরও পড়ুন: TMC Leader: তৃণমূল নেতার টেবিলে টাকার পাহাড়! নিমেষে ভাইরাল ভিডিও!
সমীক্ষার ভয়াবহ ছবি
সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, রায়গঞ্জ মহকুমায় নেশাগ্রস্ত যুবক-কিশোরদের সংখ্যা প্রতিবছর প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। ‘অ্যাভিল’, ‘মরফিন’, ‘ব্রাউন সুগার লিকুইড’ ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করিয়ে নেশার জগতে তলিয়ে যাচ্ছে তারা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হল ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই নেশার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। নেশামুক্তি কেন্দ্রগুলিতে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েদের সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে।



