Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আধুনিক যুগে সামরিক শক্তির মূল নির্ধারক হিসেবে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় (Fighter Jets), তা হল একটি দেশের আকাশসামরিক সক্ষমতা। আর এই সক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে যুদ্ধবিমান বা ফাইটার জেট। আকাশসীমা রক্ষা থেকে শুরু করে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার, সীমান্ত উত্তেজনার সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া, এমনকি প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন প্রতিটি ক্ষেত্রেই আধুনিক ফাইটার জেটের ভূমিকা অপরিহার্য। বর্তমানে বিশ্বের কয়েকটি শক্তিধর দেশ তাদের ফাইটার জেট বহরকে এতটাই শক্তিশালী করে তুলেছে যে তারা আন্তর্জাতিক সামরিক সমীকরণে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখছে। নিচে পাঁচটি দেশের আকাশশক্তির অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য বিশদভাবে আলোচিত হলো।

প্রযুক্তি, শক্তি ও বহরে সর্বশ্রেষ্ঠ (Fighter Jets)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের শীর্ষ আকাশশক্তির অধিকারী। সংখ্যা ও মান উভয় দিক থেকেই তাদের ফাইটার বহর বিশ্বের সর্বাধিক উন্নত। F-35 Lightning II, F-22 Raptor, F-16 Fighting Falcon এবং F-15 Eagle-এর মতো জেট শুধু আধুনিক প্রযুক্তির উদাহরণই নয়, বরং বৈশ্বিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের “এয়ার সুপ্রিমেসি” প্রতিষ্ঠার প্রধান অস্ত্রও বটে। স্টেলথ প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা, শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে কয়েক ঘণ্টার নোটিশে সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম। দেশটি গবেষণা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডে যেভাবে বিনিয়োগ করে, তা অন্য কোনো দেশ এখনও পুরোপুরি সমকক্ষ হতে পারেনি।

ঐতিহ্যবাহী শক্তি ও বৃহত্তর বহরের আধিপত্য (Fighter Jets)
রাশিয়া আকাশযুদ্ধে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অধিকারী। সোভিয়েত আমল থেকে শুরু হওয়া সামরিক প্রযুক্তির প্রবাহ আজও MiG ও Sukhoi-র মাধ্যমে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। MiG-29, Su-27, Su-30 ও Su-35 রাশিয়ার ফাইটার ফ্লিটের মেরুদণ্ড। পাশাপাশি Su-57 স্টেলথ জেট উৎপাদনের মাধ্যমে দেশটি পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তিতেও এগোতে চায়। রাশিয়ার ভূখণ্ড বিশাল এবং জলবায়ু কঠোর। ফলে তাদের বিমানবাহিনীকে এমনভাবে প্রস্তুত রাখা হয় যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। রাশিয়ার সামরিক নীতি শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় দেশটির ফাইটার জেট বহর স্বাভাবিকভাবেই বিশাল ও বৈচিত্র্যময়।

দ্রুত উত্থানে নতুন সামরিক সমীকরণ (Fighter Jets)
গত এক দশকে চীন আকাশশক্তির দৌড়ে যে গতিতে এগিয়েছে তা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দেশটির প্রধান যুদ্ধবিমান—J-10, J-11, J-16 এবং J-20—প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনশক্তির প্রতীক। চীন বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে প্রতিরক্ষা শিল্পে, বিশেষ করে বিমান উৎপাদনে। এই দ্রুত উন্নয়ন শুধু চীনকে বিশ্বের শীর্ষ তিন আকাশশক্তির মধ্যে নিয়ে আসেনি, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতাও দিয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে শক্তিশালী উপস্থিতি (Fighter Jets)
ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ফাইটার জেট বহরের অধিকারী। Su-30MKI-এর আধিপত্য, Mirage-2000 ও MiG-29-এর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, Rafale-এর আধুনিকতা এবং দেশীয় HAL Tejas এগুলো মিলে ভারতের আকাশবাহিনীকে আঞ্চলিকভাবে অত্যন্ত সক্ষম করে তুলেছে। ভারত প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আকাশশক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সেই লক্ষ্যেই দেশটি নিয়মিতভাবে আধুনিকীকরণ প্রকল্প চালায়, নতুন ফাইটার জেট কেনে, এবং দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। ভবিষ্যতের প্রকল্প AMCA ও TEDBF ভারতকে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত করছে।

আরও পড়ুন: Shubman Gill: আইসিইউ-তে শুভমন গিল, চিন্তায় ভারতীয় শিবির
কম সংখ্যায়ও উৎকর্ষতার প্রতীক
ফরাসি বিমানবাহিনী তুলনামূলকভাবে ছোট বহর পরিচালনা করলেও তাদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত মান বিশ্বের শীর্ষে। Dassault Rafale ফরাসি প্রযুক্তির উৎকর্ষতার প্রতিভূ বহুমুখী সক্ষমতা, আধুনিক ইলেকট্রনিক্স, স্টেলথ ডিজাইন এবং দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান। ফ্রান্সের অন্যতম শক্তি হচ্ছে তাদের নিজস্ব এভিয়েশন শিল্প, যা অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সামরিক শক্তিকে আরও স্বাধীন ও দৃঢ় করেছে। ন্যাটো জোটের সক্রিয় সদস্য হওয়ায় ফরাসি বিমানবাহিনী নিয়মিত আন্তর্জাতিক মহড়ার মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে।



