Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিন কয়েক আগেই এসিএল টু-র (East Bengal AFC) মূল পর্বের যোগ্যতা অর্জন করে পুরুষ দল নজির গড়েছিল। এবার মহাদেশীয় ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ খাতা খুলল ইস্টবেঙ্গলের মেয়েরাও। মালয়েশিয়ার লিকাস স্টেডিয়ামে এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রাথমিক পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ রাজশাহী স্টার্সকে একপেশে ম্যাচে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজের দল।
প্রথমার্ধের খেলা (East Bengal AFC)
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে শুরু করে ‘মশাল গার্লস’রা। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দলের দুই বিদেশি ফুটবলার রেস্টি নানজিরি ও ফাজিলা ইকওয়াপুট স্কোয়াডে না থাকলেও তার প্রভাব মাঠে পড়তে দেননি কোচ অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ। খেলার বয়স তখন মাত্র ৯ মিনিট, প্রতিপক্ষ বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। আস্থার প্রতিদান দিয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড ওলিভিয়া আনোকে।
এরপর ২৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রিম্পা হালদার। মাঝমাঠ থেকে বাড়িয়ে দেওয়া বল নিখুঁত শটে জালে জড়িয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ৩৮ মিনিটে আরও এক গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ওলিভিয়া। রিমা হালদারের বাড়ানো ক্রসে সুলাঞ্জনা রাউল বল বাড়িয়ে দিলে ফাঁকা জালে বল ঠেলতে ভুল করেননি ওলিভিয়া। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই (East Bengal AFC)
বিরতির পর রাজশাহী স্টার্স কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালায় এবং রক্ষণভাগ জমাট রাখার পাশাপাশি আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। বাংলাদেশের ফুটবলাররা কয়েকটি লম্বা শট নিলেও ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক এলংবাম পানথোই চানু নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের ব্যবধান বাড়াতে বেশ কিছুক্ষণ ধৈর্যশীল ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলে লাল-হলুদ ব্রিগেড।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের পূর্ণ সুযোগ নেয় ইস্টবেঙ্গল। সুলাঞ্জনা রাউলের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলের চতুর্থ গোলটি করেন সৌম্য গুগলথ। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলার মেয়েরা।
আরও পড়ুন: Durand Fixture: ডুরান্ড কাপের সূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ দুই প্রধান
পরবর্তী লক্ষ্য (East Bengal AFC)
গত মরসুমে এই টুর্নামেন্টের অভিষেকেই মূল পর্বে জায়গা করে ইতিহাস গড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে সামান্য গোল পার্থক্যের জন্য নকআউট পর্বের টিকিট হাতছাড়া হয়েছিল। চলতি মরসুমে সেই আক্ষেপ পুরোপুরি মুছে দিতে মুখিয়ে রয়েছে দল।
মূল পর্বের হাতছানি (East Bengal AFC)
গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে জয়ের ধারা বজায় রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক পর্বে ইস্টবেঙ্গলের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ২০ আগস্ট গুয়ামের নাপা রোভার্সের বিরুদ্ধে এবং ২৩ আগস্ট তারা স্বাগতিক মালয়েশিয়ার সাবা এফসি-র মুখোমুখি হবে। বর্তমান পারফরম্যান্স এবং ফর্ম বিচারে ‘মশাল গার্লস’রা যে এবারও মূল পর্বে পৌঁছানোর পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।



