Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বড়দের বড় ম্যাচে অবশেষে নৌকার পালের হাওয়া কেড়ে যুবভারতীতে জ্বলল লাল-হলুদ মশাল। রবিবার যুবভারতীতে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মেগা ডার্বিতে চিরশত্রু মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট এই ডুরান্ড কাপেই শেষবার যুবভারতীতে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দু’বছর পর সেই ডুরান্ড কাপেই যুবভারতীতে আবারও মোহনবাগানকে হারাল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে যুবভারতী চত্বর রেঙে উঠল লাল-হলুদে। দীর্ঘদিনের বুকে চেপে রাখা যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে বাঁধভাঙ্গা সেলিব্রেশানে মাতলেন লাল-হলুদ জনতা।
রবিবার ডার্বিতে দ্বিতীয়ার্ধের কয়েক মিনিট ছাড়া সারা ম্যাচে খুঁজেই পাওয়া গেল না মোহনবাগানকে। দলটা যে চরম আনফিট, তা টম অলড্রেড, অনিরুদ্ধ থাপা, আশিস রাইদের খেলা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। এদিন লড়াইটা ছিল দুই দলের দুই স্প্যানিশ কোচ হোসে মোলিনা এবং অস্কার ব্রুঁজোর। এদিনের ম্যাচে সব বিভাগেই মোহনবাগানককে টেক্কা দিয়ে গেল ব্রুজোঁর ইস্টবেঙ্গল।
আরও পড়ুন:Cristiano Ronaldo: মেসির পর কি তবে ভারতে আসছেন আরও একজন ফুটবল তারকা?
চোটের জন্য এই ম্যাচে মোহনবাগান পায়নি শুভাশিস বোস, কিয়ান নাসিরি এবং মনবীর সিংকে। ফলে মোহনবাগানের রাইট উইং এমনিতেই কানা হয়ে গিয়েছিল। এদিন রাকিপকে দিয়ে লিস্টনের বাম প্রান্তিক দৌড়টা ব্রুজোঁ আটকে দিতেই মোহনবাগানের সমস্ত জারিজুরি শেষ হয়ে যায়। গোটা প্রথমার্ধে খুঁজেই পাওয়া গেল না মোহনবাগানকে। সবুজ-মেরুনের মাঝমাঠ বলে কিছু ছিল না। প্রথম থেকেই মাঝ মাঠের দখল চলে যায় ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) হাতে। আশিস রাই, পাপুইয়ারা তথৈবচ।

ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই দাপট শুরু ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal)
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই দাপট দেখাতে শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। বিপিন সিং, মিগুয়েল, হামিদ, দিয়ামান্তাকোসদের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাগান ডিফেন্স। ৩৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে বিপিনকে ফাউল করেন আশিস রাই। পেনাল্টি দিতে ভুল করেননি রেফারি। ৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইস্টবেঙ্গলকে (East Bengal) এগিয়ে দেন দিয়ামান্তাকোস। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। ফাঁকায় বল পেয়েও বক্সের ভিতর থেকে আশিস রাই দুরন্ত শট নিলেও অল্পের জন্য বল বাইরে বেরিয়ে যায়। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। শুরুতেই আপুইয়াকে তুলে জেসন কামিংসকে নামান সবুজ-মেরুন কোচ মোলিনা। তারপরই মোহনবাগানের খেলায় কিছুটা গতি আসে। মোহনবাগান যখন খেলায় ফেরার চেষ্টা করছে তখনই ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করে যান ম্যাচের নায়ক দিয়ামান্তাকোস। ৫১ মিনিটে মহেশের থেকে বক্সের ভিতরে পাওয়া বলে হাফটার্নে দুরন্ত গোল করেন দিমি।
এরপর গোল পেতে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে মোহনবাগান। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান প্রায় কমিয়েই ফেলেছিলেন জেমি ম্যাকলারেন। তাঁর শট গোল লাইন সেভ করে দেন লাল-হলুদ ডিফেন্ডার সিবিলে। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মোহনবাগানকে। ৬৭ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর ফ্রিকিক বারপোস্টে লেগে ফিরে আসে। তার পরের মিনিটেই লিস্টনের কর্নার থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে মোহনবাগানের হয়ে ব্যবধান কমান অনিরুদ্ধ থাপা।

এরপরই টম অলড্রেড, অনিরুদ্ধ থাপা, আশিস রাইকে তুলে দ্বিমত্রি পেত্রাতোস, দীপক টাংরি এবং দিপেন্দু বিশ্বাসকে নামিয়ে দেন মোলিনা। মরিয়া হয়ে ওঠা মোহনবাগান তখন একের পর এক আক্রমণ হানায় লাল-হলুদ বক্সে (East Bengal)। কিন্তু সতর্ক ছিল ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স। শেষে ২-১ গোলে ডার্বি জিতে ডুরান্ড কাপের শেষ চারে ওঠা নিশ্চিত করে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। যোগ্য দল হিসাবেই এদিন ইস্টবেঙ্গল জিতল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ রবিবার অপর কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর এফসি-কে ২-০ গোলে হারিয়ে দেওয়া ডায়মন্ড হারবার এফসি।
দেড় বছর পর ডার্বির রং লাল-হলুদ (East Bengal)
গত মাসেই কলকাতা লিগের ডার্বিতেও কল্যাণীতে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দীর্ঘদিন পর বড়দের ডার্বিতেও জয় তুলে নিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ শেষে বাঁধভাঙ্গা সেলিব্রেশনে মাতলেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। ইস্টবেঙ্গলের জয়ে খুশি রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও। বাংলার ফুটবলের স্বার্থে ইস্টবেঙ্গলের এই জয়টা খুবই প্রয়োজন ছিল বলে জানিয়ে গেলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী। বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্রও ইস্টবেঙ্গলের জয়ে খুশি।
আরও পড়ুন:IPL 2026: টেডিংয়ে সমস্যার মুখে রাজস্থান, তারকা ক্রিকেটারকে নিয়ে সমস্যায় দল
টানা কয়েক মরশুম ধরে দলের খারাপ পারফরমেন্স এবং টানা ডার্বি হারের জন্য মুখ বুজে সবকিছু সহ্য করেছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারাও। রবিবার ডুরান্ডের ডার্বি জয়ের পর মোহনবাগানকে একহাত নিতে ছাড়লেন না ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। মোহনবাগানকে ‘পরজীবী’ বলে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না তিনি। তবে এই জয়ের কৃতিত্ব কোনও একজন ফুটবলার নয়, গোটা দলকেই দিলেন তিনি। কোচ অস্কার ব্রুঁজোকেও এই জয়ের কৃতিত্ব দিলেন। দল আরও ভালো খেলবে বলেও জানিয়ে গেলেন দেবব্রত সরকার।

এতদিনের দাপট রবিবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও এই হারকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত। দলটা একদমই ফিট নয়, সেই জন্যই হার বলে স্বীকার করে নিলেন তিনি। সেইসঙ্গে ভালো খেলেই ইস্টবেঙ্গল জিতেছে বলেও জানালেন। পাশাপাশি হারলেও ইস্টবেঙ্গলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না মোহনবাগান সভাপতি। সব মিলিয়ে বহুদিন পর এক জমজমাট ডার্বির সাক্ষী রইল যুবভারতী।


