Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) তাঁবুতে আশঙ্কার মেঘ কি সরল? আপাতত জটিলতার অবসান! অনুশীলনে নেমে করছেন লাল-হলুদের ফুটবলাররা। এমনকি, ইনজুরি তালিকায় থাকা বিদেশি ফুটবলার নাচোকেও সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। তবে এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি। আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হল। কিন্তু সমস্যা কি পুরোপুরি মিটল? এই প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে। নতুন স্পনসর না এলে এই পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে চাপে পড়তে পারে ইস্টবেঙ্গল। গত বছর এবং তার আগের মরসুমে একইভাবে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল মহমেডানে। এখন আশঙ্কা সেই একই সমস্যায় পড়তে হবে না তো ইস্টবেঙ্গলকে।
অ্যাকাউন্টের আইনি জটিলতা (East Bengal)
সমস্যার শুরু হয় নতুন কোম্পানি গঠন এবং অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে। মরসুমের শুরুতে যখন ফুটবলারদের চুক্তি সই হয়, তখন ইমামি ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত ছিল। সেই অনুযায়ী তৎকালীন কোম্পানির নামেই চুক্তিপত্র তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ইনভেস্টর হিসেবে ইমামির সঙ্গে ক্লাবের বিচ্ছেদ ঘটে এবং ইস্টবেঙ্গল এফসি নামে নতুন কোম্পানি গঠিত হয়।
নতুন কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ সক্রিয় হওয়ার আগেই ক্লাবের মূল অ্যাকাউন্ট থেকে কোচ ও খেলোয়াড়দের বেতন দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে আইনি জটিলতা তৈরি করে। একই সাথে বিদেশি ফুটবলারদের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। ক্লাবের ব্যাংকে ৩ কোটি ৭৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪৫ টাকা গচ্ছিত থাকা সত্ত্বেও শুধুই অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত আইনি ব্যাঘাতের দরুন খেলোয়াড়দের কাছে অর্থ পাঠানো যাচ্ছিল না।
বেতন না পেয়ে অনুশীলনে না নামার বিতর্ক (East Bengal)
নির্দিষ্ট দিনে অ্যাকাউন্টে টাকা না আসায় বুধবার অনুশীলনে যোগ দেননি ফুটবলাররা। মহামেডান স্পোর্টিংয়ে এই ধরনের খবর সচরাচর শোনা গেলেও, ইস্টবেঙ্গলের মতো বড় ক্লাবে বেতন বন্ধের কারণে অনুশীলন স্তব্ধ হওয়ার ঘটনা ভারতীয় ফুটবল মহলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্লাব কর্তারা চরম অস্বস্তিতে পড়েন। কর্তারা জানান, অর্থাভাবের জন্য নয়, বরং শুধুই পুরনো কোম্পানি থেকে নতুন কোম্পানিতে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টের আইনি ব্যবস্থার কারণেই ফুটবলার ও কোচের বেতন ট্রান্সফারে বিলম্ব হয়েছিল।
ব্যাংকে কর্তাদের তৎপরতা (East Bengal)
সামনেই ইন্ডিয়ান সুপার লিগে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। অনুশীলনের এই বিরতি দলের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারতো। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই লাল-হলুদ কর্তারা বেসরকারি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় হাজির হন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হয় এবং দুপুরের মধ্যেই দেশি-বিদেশি সমস্ত ফুটবলারদের অ্যাকাউন্টে বেতন পৌঁছে যায়। টাকা পাওয়া মাত্রই বিকেলের দিকে ফুটবলাররা পুরোদমে অনুশীলনে নেমে পড়েন।
বিদেশি ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ (East Bengal)
এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্লাবের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার জানান, ফুটবলারদের সঙ্গে ক্লাবের সম্পর্ক সব সময়ই পারিবারিক(East Bengal)। তবে ভারত সরকারের যাবতীয় অর্থকরী নিয়মকানুন মেনেই নতুন কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফুটবলাররা বুধবার ঠিক কী কারণে অনুশীলন বয়কট করেছিলেন, সে বিষয়ে বিশদে মন্তব্য না করলেও তিনি জানান, ক্লাবের কোনদিনই বেতনের সংকট ছিল না।
আরও পড়ুন: Ronaldo: ভারতে রোনাল্ডো! মন্ত্রীকে বিশেষ উপহার
পাশাপাশি রশিদ ছাড়া বাকি বিদেশি ফুটবলারদের খেলায় সন্তুষ্ট নন কর্তারা। কোচ হাবাসের রিপোর্টের ওপর নজর রাখা হচ্ছে; পারফরম্যান্সে উন্নতি না হলে বিদেশি ফুটবলার বদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই চলমান বিতর্ক ও বেতন জট শিল্ড ফাইনালে দলের পারফরম্যান্সে কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছিল কিনা—তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি লাল-হলুদের শীর্ষ কর্তা।



