Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লিতে সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে যা নোটবন্দির প্রায় এক দশক পরও তার প্রভাব ও পরিণতির অন্ধকার অধ্যায়কে নতুন করে সামনে এনে দেয় (Evicted Demonetized)। শালিমার বাগ মেট্রো স্টেশনের সামনে উদ্ধার হয়েছে দু’টি গাড়ি ভর্তি বাতিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা এবং গ্রেপ্তার করেছে চারজনকে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হল যে নোটবন্দির সময়ের বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রতারণার ব্যবসা এখনও সক্রিয়।

গোপন সূত্রে পুলিশের হানা (Evicted Demonetized)
বুধবার গোপনসূত্রে খবর পেয়ে শালিমার বাগ মেট্রো স্টেশনের ৪ নম্বর গেটের সামনে হানা দেয় দিল্লি পুলিশ। সন্দেহজনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা দু’টি গাড়িতে তল্লাশি চালাতেই প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য গাড়িগুলির ভেতর ব্যাগে ভরা রয়েছে বহু বান্ডিল পুরোনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার ব্যাঙ্কনোট। নোটবন্দির সময় অবৈধ ঘোষিত এই নোটগুলি এতদিন পর কোন উদ্দেশ্যে, কার কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেই প্রশ্নই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

গ্রেপ্তার চার ব্যক্তি (Evicted Demonetized)
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই চার যুবককে গ্রেপ্তার করে। তারা হল, হর্ষ (২২) ও টেকচাঁদ ঠাকুর (৩৯) দু’জনেরই বাড়ি রোহিণী সেক্টর ২৫-এ। লক্ষ (২৮) ব্রজপুরীর বাসিন্দা। বিপিন কুমার (৩৮) ফিরোজ শাহ রোডের বাসিন্দা হলেও তাঁর মূল বাড়ি হিমাচল প্রদেশে। জানা গেছে, এই চারজন মিলে একটি সুসংগঠিত অবৈধ চক্র চালাত, যারা নোটবন্দির সময় বাতিল হওয়া টাকার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ভরসার অপব্যবহার করত।
কীভাবে কাজ করত এই চক্র? (Evicted Demonetized)
দিল্লি পুলিশের দাবি, ধৃত চারজন নোটবন্দির সুযোগ নিয়ে তৈরী হওয়া প্রতারণার এক ধাপ্পাবাজ চক্রের সদস্য। তারা নোটবন্দির পর জারি হওয়া অসহায়তা আর বিভ্রান্তি কাজে লাগিয়ে বাতিল নোট সংগ্রহ করত। চক্রটির কাজের পদ্ধতি ছিল সাধারণ কিন্তু ভয়ঙ্কর কার্যকর, কম দামে মানুষের কাছ থেকে বাতিল নোট সংগ্রহ করা, আশ্বস্ত করা যে নোটগুলি রিজার্ভ ব্যাঙ্কে পরিবর্তন করা যাবে, নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা, পরিমাণে বিপুল টাকা জমিয়ে তা অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করা, ধৃতদের কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্র বা অনুমতি ছিল না। ফলে অবৈধভাবে এত পরিমাণ নিষিদ্ধ মুদ্রা পরিবহনের অভিযোগেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কেন অপরাধ পুরোনো নোট বহন করা? (Evicted Demonetized)
২০১৬ সালের নোটবন্দির পর কেন্দ্রীয় সরকার পাঁচশো ও হাজার টাকার পুরোনো নোটকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে। নির্দিষ্ট সময়সীমার পর এই নোট রাখা, বহন করা বা লেনদেন করা সবই আইনের চোখে অপরাধ। ধৃত চারজন এই আইনেরই সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, জেরা চালিয়ে চক্রটির মূল চালকদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: Underwater Robot Drones: নদী সেতুর নিরাপত্তায় রেলের নতুন উদ্যোগ
কত বড় নেটওয়ার্ক?
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, উদ্ধার হওয়া ৩.৫ কোটি টাকা কোনও বৃহত্তর চক্রের অংশ কি না, নোটগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, পুরোনো নোট বদলের নামে প্রতারিত হয়েছেন কত মানুষ, এই নেটওয়ার্ক কি দিল্লির বাইরে আরও রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে, প্রাথমিক অনুমান, এটি কেবলমাত্র একটি শাখা মূল চক্রের বিস্তার আরও বড় হতে পারে।



