Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: খাস কলকাতার ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা আনন্দপুরের গুলশন কলোনি শুক্রবার সকালে পরিণত হল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কেন্দ্রে (Fire Incident)। সকাল দশটা নাগাদ আচমকা রঙের গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনা সামনে আসতেই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। বহু মানুষের আবাসস্থল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

রঙের গোডাউনেই আগুনের জন্ম (Fire Incident)
প্রাথমিকভাবে দমকল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুলশন কলোনির এক রঙের গোডাউনে আগুন লাগে। গোডাউনের ভিতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ, কেমিক্যাল ও রঙের ড্রাম থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। ভেতরে থাকা কেমিক্যাল থেকেই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
বিপদে শতাধিক বাসিন্দা (Fire Incident)
গোডাউনের উপরেই ছিল বহুতল আবাসন। আশেপাশেও রয়েছে বহু বাড়ি ও একটি নির্মীয়মাণ বহুতল। ঘন জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় দোতলা ও উপরতলার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
দমকলের চ্যালেঞ্জ (Fire Incident)
দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে কার্যরত থাকলেও কেমিক্যালের উপস্থিতির কারণে জল ছিটিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুন নেভানোর জন্য অন্য বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করার প্রস্তুতি চলছে। প্রচণ্ড তাপ ও কালো ধোঁয়ার কারণে দমকল কর্মীদের কাজেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে নির্মীয়মাণ পাশের বহুতলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িটির বাহিরের অংশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং জ্বলন্ত তাপের চাপে গায়ে ফেটে বেরোয় আগুনের তীব্রতা।
আরও পড়ুন: Placement: চাকরির বাজারে বড় খবর: দেশের আইআইটিগুলিতে রেকর্ড নিয়োগ, প্রথম দিনেই ঝড়!
আগুন কি আরও ছড়াতে পারে?
দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আগুন আরও বাড়ির দিকে ছড়িয়ে পড়বে কি না। অনেকে বাড়ি খালি করে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশবাহিনী। চারদিক ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে থাকায় যানচলাচলেও প্রভাব পড়েছে।
যদিও কোনও প্রাণহানির খবর নেই, তবুও রঙের গুদামটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আবাসনের নীচের অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দমকল কর্তৃপক্ষ আগুন নেভানোর পরে সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে দেখবে। রঙের গোডাউনে নিরাপত্তা মানা হয়েছিল কি না, দাহ্য পদার্থের সঠিক সংরক্ষণ হয়েছিল কি না এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসবে।



