Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার একবালপুরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে (Firhad Hakim)। ভোটের আবহে এই ঘটনা শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নই তুলছে না, বরং রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে তা এক বৃহত্তর বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরব হয়েছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ফিরহাদ হাকিম।

‘ইউপি কালচার’ মন্তব্যে তীব্র আক্রমণ (Firhad Hakim)
একবালপুরের ঘটনার পর বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি কখনও এমন ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক হিংসার ধাঁচ বাংলায় আমদানি করার চেষ্টা চলছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এই ধরনের রাজনীতি বাংলার কৃষ্টি নয়। অপরাধীদের প্রার্থী করা এবং রাজনীতিকে অপরাধের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া এটাই ইউপি কালচার।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত ভারতীয় জনতা পার্টি-র বিরুদ্ধে ‘ক্রিমিনালাইজেশন’ ও ‘কমিউনালাইজেশন’-এর অভিযোগ তোলেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক (Firhad Hakim)
ঘটনার পর বিজেপি প্রার্থীর পরিবার থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে প্রার্থীর কন্যা আহত হওয়ার প্রসঙ্গ সামনে এনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন,
পুলিশের ওপর আক্রমণ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই হবে। তাঁর মতে, যারা অশান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: WB Election 2026: বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের, কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড়?
‘বাংলার সংস্কৃতি ভাঙার চেষ্টা’ (Firhad Hakim)
ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যে একটি বড় উদ্বেগের জায়গা হল সামাজিক বিভাজন। তিনি মনে করেন, ভোটকে কেন্দ্র করে ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে সমাজকে দুর্বল করার পরিকল্পনা চলছে।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয় বরং সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নও উঠে এসেছে।
পোর্টবাসীর উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা
একবালপুর ও পোর্ট এলাকার সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন মেয়র। তিনি সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আস্থা রাখার কথা বলেন। তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট, ধৈর্য ধরতে হবে, উসকানিতে পা দেওয়া চলবে না, এবং আইনের ওপর ভরসা রাখতে হবে।



