Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মেক্সিকো আবারও সহিংসতা, অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে (Gen Z protests)। এ বছর বিশ্বের বহু দেশে তরুণ প্রজন্ম বিশেষত জেনারেশন জেড দুর্নীতি, সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। সেই ঢেউ সম্প্রতি আছড়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ দেশ মেক্সিকোতে। ১৫ নভেম্বর শনিবার, রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে শুরু করে দেশের প্রায় ৫০টি শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। এটি শুধু একটি বিক্ষোভ ছিল না বরং বহু বছরের জমাট হতাশা, নিরাপত্তাহীনতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক প্রজন্মের বিস্ফোরণ।

জ্বলে ওঠা আগুন (Gen Z protests)
১ নভেম্বর মিচোয়াকান রাজ্যের উরুপান শহরের মেয়র কার্লোস আলবার্তো মানজো রদ্রিগেজ নির্মমভাবে খুন হন। তাঁর বিরুদ্ধে বহুবার হুমকি ছিল, কারণ তিনি মাদক চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন। রদ্রিগেজের জনপ্রিয়তা, তাঁর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিঃসন্দেহ লড়াই তরুণদের কাছে এক অনুপ্রেরণা ছিল। তাই তাঁর মৃত্যু মেক্সিকোর তরুণ সমাজের কাছে যেন রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতার এক চরম নিদর্শনে পরিণত হয়। নিহতের কয়েক মাস আগেই রদ্রিগেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রপতি ক্লডিয়া শেইনবাউমের উদ্দেশে সহায়তার আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কার্টেল ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন একা লড়াই করতে পারছে না। কিন্তু সেই সাহায্য আর পাওয়া হয়নি। এটাই তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে তীব্রতর করেছে।

দেশজুড়ে সহিংসতার বিস্তার (Gen Z protests)
মেক্সিকোতে সহিংসতার ইতিহাস কয়েক দশকের পুরনো। গ্যাংওয়ার, মাদক কার্টেলের দাপট, অপহরণ, নিখোঁজ হওয়া, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এ সবই এখন মেক্সিকোর দৈনন্দিন বাস্তবতা। শুধুমাত্র ২০১৮ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। গ্যাং ও কার্টেলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি বিপন্ন। মানবাধিকার লঙ্ঘন, পুলিশের অসহায়তা এবং রাষ্ট্রীয় অভিযানের ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০০৬ সালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফেলিপে ক্যালডেরন কার্টেলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন। কিন্তু এতে অপরাধ কমার বদলে আরও ছড়িয়ে পড়ে। কারণ এক কার্টেল দুর্বল হলে তা ভেঙে ছোট ছোট গ্যাং তৈরি হয়, যাদের মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে যায়।
তরুণদের নতুন প্রতিবাদী মুখ (Gen Z protests)
রদ্রিগেজ হত্যার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন তরুণ সংগঠন “জেনারেশন জেড মেক্সিকো” প্রতিবাদের ডাক দেয়। তাদের দাবি, তারা রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, দুর্নীতি, অপরাধ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সহিংসতায় তারা ক্লান্ত, তরুণদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রকে আরও দায় নিতে হবে, এই সংগঠনের “ইশতেহার” তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপরই দেশজুড়ে প্রবল প্রতিবাদ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা যায় একটি বিশেষ পতাকা দস্যুর খুলির পতাকা। এর উৎপত্তি জাপানি মাঙ্গা কমিক্স থেকে। আজ এটি দুর্নীতিগ্রস্ত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক প্রতীক।

সমাধান না বিভ্রান্তি? (Gen Z protests)
বর্তমান রাষ্ট্রপতি ক্লডিয়া শেইনবাউম তাঁর পূর্বসূরীর অনুসৃত নীতি “গুলি নয়, আলিঙ্গন” চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ শক্ত করে দমন নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য, তদন্ত, যুব পুনর্বাসন, সামাজিক উন্নয়ন, এই পথেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই নীতি ব্যাপকভাবে অকার্যকর, এবং অপরাধী গোষ্ঠীরা আরও নিশ্চিন্তে শক্তি বাড়াচ্ছে। জেনারেশন জেডের তরুণদের এক বড় অংশ মনে করছেন এভাবে অপরাধ দমন সম্ভব নয়, বরং দেশে ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।
আরও পড়ুন: Bangladesh Shoot Order: রায় ঘোষণার আগেই আগুন! আবার কি জুলাই আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি?
কেন প্রজন্ম-সীমানা পেরিয়ে গেল আন্দোলন?
যদিও আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল জেনারেশন জেড, তবুও রাস্তায় নেমেছে সব বয়সের মানুষ। কারণ, মেয়র হত্যার মতো ঘটনাগুলো মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে নতুন বেগ দিয়েছে, সাধারণ জনগণ নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়েছে, কার্টেলগুলোর অবাধ দৌরাত্ম্য দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে আতঙ্কিত করে তুলেছে, তরুণরা ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে ভুগছে, ফলে আন্দোলন শুধু একটি প্রজন্মের নয়, বরং সমগ্র সমাজের হয়ে উঠেছে।



