Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুমনা বেরা: পালাবদলের পরেও (Govt Teacher) বদল হল না রাজ্য শিক্ষা দফতরে। ফের প্রকাশ্যে শিক্ষা দফতরের ঢিলেঢালা মনোভাব। প্রশাসনিক নজরদারির চরম ব্যর্থতার অভিযোগ। সরকারি আইন ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মথুরাপুর-২ ব্লকে রমরমিয়ে প্রাইভেট টিউশন চালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল কাশীনগর উচ্চ মাধ্যমিক হাই স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এমনকি শিক্ষা দফতর ও স্থানীয় বিধায়কের কাছে লিখিত ‘মুচলেকা’ দেওয়ার পরও আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছেন ওই শিক্ষক, যা রাজ্যের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।
মোটা টাকার বিনিময়ে টিউশন স্কুল শিক্ষকের (Govt Teacher)
অভিযোগ, কাশীনগর স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক চাঁদ রতন (Govt Teacher) মণ্ডল নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপটে বাড়িতে মোটা টাকার বিনিময়ে টিউশন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘কাশীনগর প্রাইভেট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে একাধিকবার সরব হওয়া সত্ত্বেও কাজ হয়নি কিছুই। সরকারি বেতন ভোগ করে কীভাবে একজন শিক্ষক দিনের পর দিন আইন ভেঙে নিজের পকেট ভরছেন, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ।
শিক্ষা দফতরের ভূমিকা নিয়েও উঠছে (Govt Teacher) প্রশ্ন। অভিযোগের পর শিক্ষা দফতরের এসআই এবং ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সুরজিৎ পুরকাইত ওই শিক্ষকের থেকে লিখিত মুচলেকা নিলেও তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। এমনকি স্থানীয় রায়দিঘির বিধায়ক তাপস মণ্ডল ফোনে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সেই নির্দেশকে কোনও পাত্তাই দেননি অভিযুক্ত শিক্ষক। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও প্রশাসনিক কর্তাদের এই নমনীয় মনোভাবেরই কি সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু শিক্ষকেরা? মুচলেকা ভাঙার পর কেন কোনও কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হল না?
অভিযুক্ত শিক্ষক চাঁদ রতন মণ্ডলের দাবি, তিনি সামান্য টাকার বিনিময়ে পড়ান এবং বছরের মাঝে বন্ধ করলে নাকি পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়বে! অন্যদিকে, ঘটনাকে আড়াল করতে অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স সার্ভিসের রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতির মতো অনেকেই ভিন্ন যুক্তি সাজাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: Assam Flood: অসমে বন্যা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক: বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, ৩ লক্ষের বেশি মানুষ জলবন্দি
সব মিলিয়ে, একের পর এক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় জর্জরিত রাজ্য শিক্ষা দফতর যে এখনও প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ অপদার্থ, কাশীনগরের ঘটনা তা আরও একবার পরিষ্কার করে দিল। আইন অমান্যকারী এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসন আদৌ কি কোনও কড়া আইনি পদক্ষেপ নেবে, নাকি প্রতিবারের মতো এবারও বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যাবে, সেটাই এখন দেখার।


