Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নতুন বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে, যা ঘিরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে (H-1B Visa Program)। ৫১ সেকেন্ডের সেই ভিডিও বিজ্ঞাপনে সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে তারা তরুণ আমেরিকানদের পরিবর্তে বিদেশিদের, বিশেষত ভারতীয়দের, নিয়োগ দিচ্ছে এবং এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামের অপব্যবহার করছে। ভিডিওটির সূচনায় ১৯৫০-এর দশকের “আমেরিকান ড্রিম”-এর চিত্র তুলে ধরা হয় সুখী পরিবার, কারখানা, নির্মাণ ক্ষেত্র, এবং সফল নাগরিক জীবনের প্রতীক। এরপর আধুনিক আমেরিকার চিত্র দেখিয়ে বলা হয়, বহু তরুণ আজ সেই স্বপ্ন হারিয়ে ফেলেছেন, কারণ তাদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে বিদেশিদের।

আমেরিকান ড্রিম পুনরুদ্ধারের ডাক (H-1B Visa Program)
এক্স-পোস্টে মার্কিন শ্রম বিভাগ লিখেছে, “তরুণ আমেরিকানরা তাদের স্বপ্ন হারাচ্ছে। কারণ কোম্পানিগুলি ব্যাপকভাবে এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার করছে। তাদের বদলে চাকরি দেওয়া হচ্ছে বিদেশিদের।” বিজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শ্রম দফতরের সচিব লরি শ্যাভেজ ডি রোমার-এর নেতৃত্বে এই ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের স্লোগান, “আমেরিকানদের জন্য আমরা আমেরিকান ড্রিম পুনরুদ্ধার করব।”
নতুন নীতি, পুরনো দর্শনের পুনরুত্থান (H-1B Visa Program)
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া ‘প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল’ হলো ট্রাম্প প্রশাসনের এক নতুন উদ্যোগ, যার লক্ষ্য,
- এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা,
- মার্কিন নাগরিকদের চাকরি সুরক্ষা দেওয়া,
- এবং বিদেশি কর্মীদের দ্বারা “প্রতিস্থাপন” বন্ধ করা।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রম দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যৌথভাবে প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অডিট চালাবে।
ভারত—সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী (H-1B Visa Program)
বিজ্ঞাপনে সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে যে, এইচ-১বি ভিসার ৭২ শতাংশ ভারতীয় নাগরিকদের দেওয়া হয়। এই তথ্যটি তুলে ধরে ট্রাম্প প্রশাসন যেন ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির দিকে আঙুল তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ভারতীয় আইটি কোম্পানি যেমন ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রো, কগনিজেন্ট-এর মতো সংস্থাগুলির উপর অতিরিক্ত নজরদারি ও অডিটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বহু প্রবাসী ভারতীয় কর্মী চাকরি হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আমেরিকা ফার্স্ট’-এর প্রত্যাবর্তন (H-1B Visa Program)
এই বিজ্ঞাপন নিছক শ্রমনীতি নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর পুরনো ‘America First’ নীতিকে আরও জোরদারভাবে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই নীতির মূল দিকগুলো হলো,
- দেশীয় নিয়োগে অগ্রাধিকার,
- বিদেশি ভিসা প্রোগ্রামের কঠোরতা বৃদ্ধি,
- ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার নামে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, “প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল” হবে এমন এক উদ্যোগ যা সংস্থাগুলিকে বাধ্য করবে মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দিতে।
আরও পড়ুন: Jagaddhatri Puja: এই পুজো কি সত্যিই চন্দননগরেই শুরু হয়েছিল? জানা আছে এর উৎস?
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভারতীয় উদ্বেগ
ভারতের কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কারণ এই পদক্ষেপ সরাসরি ভারতের দক্ষ প্রযুক্তিকর্মীদের কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। আইটি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে, কারণ দক্ষ বিদেশি কর্মীর অভাব মার্কিন সংস্থাগুলির উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এই প্রচারণা নির্বাচনী কৌশলের অংশ বলেও মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। শ্রম ও অভিবাসন ইস্যুতে জাতীয়তাবাদী মনোভাব জাগিয়ে তুলেই ভোটারদের আকর্ষণ করার চেষ্টা চলছে।



