Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্ঘটনায় দুই ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এক পাইলট (Helicopter Crash)। রবিবার গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমে অবস্থিত পসাথাস এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

কীভাবে ঘটল ভয়াবহ সংঘর্ষ? (Helicopter Crash)
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দাবানল নেভাতে আকাশ থেকে জল ফেলার কাজ করছিল দুটি বেল হেলিকপ্টার। আগুনের তীব্রতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উড়ান চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দুটি হেলিকপ্টার অস্বাভাবিকভাবে একে অপরের খুব কাছে চলে আসে। সেই সময় একটি হেলিকপ্টারের রোটর বা প্রোপেলার অপর হেলিকপ্টারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পর মুহূর্তের মধ্যেই একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে ভেঙে পড়ে। অন্য হেলিকপ্টারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাইলট সেটিকে নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।
মৃত দুই ক্রু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন পাইলট (Helicopter Crash)
দুর্ঘটনাগ্রস্ত হেলিকপ্টারে থাকা দুই ক্রু সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে গ্রিসের বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ।
দাবানলে বিপর্যস্ত গ্রিস, বাড়ছে উদ্বেগ (Helicopter Crash)
দুর্ঘটনার পাশাপাশি গ্রিসে দাবানলের পরিস্থিতিও দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তীব্র গরম, দীর্ঘ খরা এবং ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকা ঝোড়ো হাওয়া আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। গ্রিক প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস দেশবাসীকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন— (Helicopter Crash)
“গ্রিস বর্তমানে চরম আবহাওয়ার কবলে। বহু এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রবল বাতাসের কারণে অগ্নিনির্বাপক বিমান ও হেলিকপ্টারের নিরাপদে কাজ করাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি পোর্তো জেরমেনো এলাকায়
রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে জনপ্রিয় উপকূলীয় গ্রাম পোর্তো জেরমেনো এবং সংলগ্ন এলাকায় দাবানলের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৫০০ জন দমকলকর্মী দিনরাত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী— (Helicopter Crash)
১০,০০০ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি ইতিমধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বহু বাড়িঘর ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দাবানল মোকাবিলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩ জন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
শতাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং একাধিক এলাকায় জারি রয়েছে জরুরি সতর্কতা।
চরম আবহাওয়া বাড়াচ্ছে বিপদ

আরও পড়ুন: Agnimitra Paul: ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় ইট-বালি রাখলেই জরিমানা! কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ঘটনা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাস একসঙ্গে আগুনকে দ্রুত বিস্তার ঘটাতে সাহায্য করছে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যদের জীবনও চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।



