Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোরে দক্ষিণ বারাসত স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে ভয়াবহ আগুন (Fire in Rainagar)। জয়নগরের গোঁড়েরহাটের কাছে রায়নগর এলাকায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা দো’তলা দোকান ও গোডাউনে তখন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। পথচলতি মানুষের চিৎকারে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাণপণ উদ্যোগ আগুন নেভাতে (Fire in Rainagar)
আগুন দেখতে পেয়েই আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। কেউ বালতি নিয়ে, কেউ আবার পাইপ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু গোডাউনের ভেতরে থাকা শুকনো ফুল ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী দ্রুত আগুন ধরে ফেলায় তাঁদের প্রচেষ্টা তেমন কাজে আসেনি।
দমকলের দুটি ইঞ্জিনের তৎপরতা (Fire in Rainagar)
খবর দেওয়া হয় জয়নগর ও বারুইপুর দমকল কেন্দ্রে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি কেন্দ্র থেকে দুটি ইঞ্জিন এসে পৌঁছয়। দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। শুকনো সামগ্রী মজুত থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার গতি ছিল অত্যন্ত বেশি, ফলে নিভাতে সময় লাগে। এখনও আগুন লাগার আসল কারণ স্পষ্ট নয় বলে দমকল সূত্রের বক্তব্য।

শর্ট সার্কিট নাকি নাশকতা? (Fire in Rainagar)
স্থানীয়দের অনেকে দাবি করছেন, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগতে পারে। তবে দোকানের মালিক নারায়ণ গায়েন এক ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই আগুন লাগানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “ছাদে কিছুই ছিল না, কিন্তু সেখানেও আগুন দেখা গিয়েছে। কেউ না কেউ ইচ্ছে করেই আগুন ধরিয়েছে।”
ঘুমের মধ্যেই আগুন (Fire in Rainagar)
গোডাউন থেকে নারায়ণের বাড়ি মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ। ঘটনার সময় তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। হঠাৎ ফোন পেয়ে ছুটে আসেন দোকানে। এসে দেখেন তাঁর বহু বছরের ব্যবসা আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: Nepal Protest: দেশেই আছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, অপেক্ষা শুধু নির্বাচনের…
ভয়াবহ ক্ষতিতে বিপর্যস্ত পরিবার
নারায়ণ গায়েন জানিয়েছেন, আগুনে তাঁদের দোকান ও গোডাউনের অন্তত ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাঁর পরিবারের জীবিকা সম্পূর্ণ এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। তাই এই অগ্নিকাণ্ড তাঁদের ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমার পুরো পরিবার এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। আজ আমরা কার্যত পথে বসে গেলাম।”



