Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ভারত সরকার। এবার দেশের সমস্ত স্কুল ও কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে ‘কম্প্রিহেনসিভ সেক্স এডুকেশন’ (CSE) বা ব্যাপক যৌন শিক্ষা(India Sex Education)। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বি. ভি. নাগারথনা এবং আর. মহাদেবনের এজলাসে এই সম্মতি জানায় কেন্দ্র।
কেন এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত? (India Sex Education)
পকসো (POCSO) আইনের অধীনে নাবালক-নাবালিকাদের পারস্পরিক সম্মতিতে তৈরি সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রবণতা ইদানীং ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক সময় অভিভাবকেরা ‘সম্মান’ বাঁচাতে কিশোর জুটির বিরুদ্ধে এই কঠোর আইনে মামলা দায়ের করেন। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ—বয়ঃসন্ধিকালের কৌতূহলকে আইনি অপরাধ হিসেবে না দেখে, তাদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োজন। আর এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই উঠে এসেছে দেশব্যাপী মানসম্মত যৌন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা।
কেমন হবে নতুন পাঠ্যক্রম? (India Sex Education)
২৬ সদস্যের এক বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ মেনে তৈরি এই পাঠ্যক্রমটি হবে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত এবং বয়স-উপযোগী:
প্রাথমিক স্তর: মূলত ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরিচিতি এবং ‘স্পর্শের নিরাপত্তা’ (Safe vs Unsafe touch) বুঝতে শেখানো হবে।
মাধ্যমিক স্তর: বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তন, ব্যক্তিগত সীমানা এবং কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে কীভাবে সাহায্য চাইতে হবে, তা শেখানো হবে।
ক্লাসের সময়সীমা: জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর আওতায় সপ্তাহে দু’দিন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য বিশেষজ্ঞ শিক্ষকেরা এই ক্লাস নেবেন।
আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: ‘কংক্রিটের জঙ্গল’ থেকে ফিরবে সবুজ বাংলা? অরণ্য সপ্তাহে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
সামাজিক জড়তা দূর করার চেষ্টা (India Sex Education)
আমাদের সমাজে যৌনতা নিয়ে কথা বলা আজও এক বড় সামাজিক ট্যাবু। তাই অভিভাবকদের আপত্তির কথা মাথায় রেখে, এই কর্মসূচিতে বাবা-মায়েদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং সেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট বা পর্নোগ্রাফির বিভ্রান্তিকর তথ্যের হাত থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে এবং তাঁদের সুরক্ষিত রাখতে এই সময়োপযোগী ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।



