Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশজুড়ে প্রতিদিন বাড়ছে রেলযাত্রীর সংখ্যা। উৎসব, কর্মদিবস কিংবা ছুটির মরশুম—প্রায় সব সময়ই ট্রেনে বিপুল যাত্রীচাপ দেখা যায় (Indian Railways)। এই পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ভারতীয় রেল উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে বলে দাবি রেল মন্ত্রকের। মন্ত্রকের বক্তব্য, যাত্রীদের নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চালানোও রেলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় বাড়ল সময়ানুবর্তিতা (Indian Railways)
রেল মন্ত্রকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতার হার ছিল ৬৯.২ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭.৪৩ শতাংশে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত সময়মতো ট্রেন চলাচলের হার ৭৭.১১ শতাংশ। অর্থাৎ কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে রেলের সময়ানুবর্তিতা বেশ কিছুটা উন্নত হয়েছে।
মন্ত্রকের দাবি, গত তিন বছর ধরেই এই হার ৭৭ শতাংশের বেশি রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সময়ানুবর্তিতার হার ছিল ৭৩.৬২ শতাংশ। ফলে পরিসংখ্যানের বিচারে ধারাবাহিক উন্নতির একটি প্রবণতা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রেল।
সোশ্যাল মিডিয়ার পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন
তবে রেলের সময়ানুবর্তিতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পরিসংখ্যানকে ‘প্রেক্ষিতহীন’ বলে দাবি করেছে মন্ত্রক। রেলের যুক্তি, কোভিড অতিমারির সময়কার তথ্যের সঙ্গে স্বাভাবিক সময়ের পরিষেবার সরাসরি তুলনা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয় না।
২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবর্ষে সময়ানুবর্তিতার হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। কিন্তু সেই সময় দেশে সীমিত সংখ্যক ট্রেন চলাচল করত। পূর্ণ ক্ষমতায় রেল পরিষেবা চালু না থাকায় ট্রেনের সংখ্যা, যাত্রীচাপ এবং রেলপথের উপর চাপও ছিল তুলনামূলকভাবে কম (Indian Railways)।
নজরদারি থেকে পরিকাঠামো—উন্নতির একাধিক কারণ
রেল মন্ত্রকের মতে, পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার পরেও সময়ানুবর্তিতা ধরে রাখতে একাধিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, ট্রেনের সময়সূচির যুক্তিসংগত পুনর্বিন্যাস, রক্ষণাবেক্ষণের উন্নতি এবং পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ—সব মিলিয়েই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: Manipur Crisis: ফের উত্তপ্ত মণিপুর, গুলিতে কুকি-জো যুবকের মৃত্যু! বাড়িতে আগুন, বাড়ছে আতঙ্ক
রেলের বক্তব্য, যাত্রীসংখ্যা ও পরিষেবার চাহিদা ক্রমশ বাড়লেও নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চালানো নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে। ফলে বিপুল যাত্রীচাপের মধ্যেও সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখাই এখন ভারতীয় রেলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এবং অগ্রাধিকারের বিষয়।



