Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। নিয়োগ দুর্নীতি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলব, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি প্রায় প্রতিটি বিষয়েই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়েও একাধিক ইঙ্গিত, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে (Dilip Ghosh)।
সিআইডি তদন্তে অভিষেককে নিশানা (Dilip Ghosh)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, আদালতের নির্দেশকে বারবার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করার পরিবর্তে আইনি রক্ষাকবচের আড়ালে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। দিলীপের কথায়, আদালত সাময়িক স্বস্তি দিলেও তদন্তে সহযোগিতা না করলে শেষ পর্যন্ত আদালত কঠোর অবস্থান নিতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রেও সরাসরি উপস্থিত না থেকে অন্যের মাধ্যমে গ্রহণ করানো হয়েছে এবং তদন্তকারী সংস্থাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
“তথ্য যত বেরোবে, ব্যবস্থা তত হবে” (Dilip Ghosh)
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তলব নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, দুর্নীতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই শাসকদলের নেতাদের নাম উঠে আসছে। ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা জেলে গিয়েছেন, আবার অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাঁর দাবি, এতদিন যাঁরা নীরব ছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও ধীরে ধীরে সামনে আসবে। তদন্তে নতুন তথ্য বেরিয়ে এলে আইন নিজের পথে চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে কটাক্ষ (Dilip Ghosh)
অরূপ বিশ্বাসের সম্ভাব্য হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দিলীপ ঘোষ সরাসরি ব্যক্তিগত মন্তব্য না করে তৃণমূলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, এখন সাধারণ মানুষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করেছে। ডিমের মূল্যবৃদ্ধির মতো সাধারণ সমস্যা থেকেও মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। এই ক্ষোভ ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয়?
তৃণমূলের কিছু বিক্ষুব্ধ সাংসদের বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম খোঁজার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, দলের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ‘থ্রেট কালচার’ বা ভয় দেখানোর রাজনীতি চলেছে। তাঁর মতে, অনেক নেতা বাধ্য হয়ে দলে কাজ করলেও এখন তাঁরা স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার সুযোগ খুঁজছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের রায়ে জিতে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার সবার রয়েছে এবং সেই স্বাধীনতাই এখন অনেকে দাবি করছেন।
‘পুষ্পা’ বিতর্ক ও কনভয় হামলার পুরনো মামলা
এক সময়ের বহুচর্চিত কনভয় হামলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, অতীতের বহু ঘটনাই নতুন করে তদন্তের আওতায় আসতে পারে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, একটি হামলার সময় তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের গাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মতে, সেই সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল এবং সাধারণ মানুষের আইন-শৃঙ্খলার উপর আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই আস্থা পুনরুদ্ধার হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলের উপহার ফেরত
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিয়ের উপহার ফেরত দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, উপহার গ্রহণ করার সময় যদি কোনও আপত্তি না থাকে, তাহলে পরে তা ফেরত দেওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, যে কেউ চাইলে উপহার ফেরত দেওয়ার অধিকার রাখেন, কিন্তু সেই ঘটনাকে প্রকাশ্যে এনে রাজনৈতিক নাটক তৈরির প্রয়োজন কী সেই প্রশ্নও তোলেন।

নয়নার মেকআপ বিতর্কে সংযত দিলীপ
সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটাক্ষের রাজনীতিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধেও অতীতে বহু ব্যক্তিগত আক্রমণ হয়েছে। বর্তমানে তৃণমূলের অভ্যন্তরেই যে দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে, সেটাই বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
নতুন নয় তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব (Dilip Ghosh)
কুণাল ঘোষ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূলে এই ধরনের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক নেতার সঙ্গে দলের অন্য নেতাদের সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর মতে, এই ধারাবাহিক কোন্দল দলীয় ঐক্যের জন্য শুভ সংকেত নয়।
‘মুষল পর্ব’-এর উপমায় তৃণমূলের ভবিষ্যৎ (Dilip Ghosh)
সবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মহাভারতের উপমা টেনে আনেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, মহাভারতের যদুবংশ ধ্বংসের আগে যে ‘মুষল পর্ব’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা সেই রকম বলেই মনে হচ্ছে। তাঁর মতে, দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, পারস্পরিক অভিযোগ এবং নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমশ একটি বড় রাজনৈতিক সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: Ahmadabad Plane Crash: আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর: বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা
রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত
দিলীপ ঘোষের এই ধারাবাহিক মন্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তদন্ত, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলীয় ভাঙন এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত যত বাড়ছে, ততই রাজনৈতিক ভাষার তীব্রতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।



