Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সম্প্রতি জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট ২০২৬’ সম্মেলনে বড় তথ্য শেয়ার করেছেন রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (RBI) ডেপুটি গভর্নর শিরীষ চন্দ্র মুর্মু। মূল্যের দিক থেকে না হলেও, বাজারে প্রচলিত নোটের বা নোটের সংখ্যার (Circulation) দিক থেকে মার্কিন ডলার ও ইউরোকে পেছনে ফেলেছে ভারতীয় টাকা(Indian Rupee)।
সংখ্যার হিসাব: ভারতীয় টাকা বনাম ডলার ও ইউরো (Indian Rupee)
ভারতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ কাগজের নোট বাজারে রয়েছে, যা ডলার বা ইউরোর তুলনায় অনেক বেশি:
ভারতীয় টাকা: মোট ১৭৬ বিলিয়ন (১৭,৬০০ কোটি) ব্যাংকনোট চালু রয়েছে।
মার্কিন ডলার: বাজারে প্রচলিত মার্কিন ডলারের সংখ্যা প্রায় ৫৬ বিলিয়ন।
ইউরো: ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের হিসেবে বর্তমানে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ইউরো নোট চালু রয়েছে।
অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে চালু থাকা মোট ডলারের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি কাগজের নোট ভারতে বাজারে ঘুরছে। ভারতে প্রতি বছর ২৮ থেকে ৩০ বিলিয়ন নতুন নোট ছাপা হয় এবং প্রায় ২১ বিলিয়ন পুরনো বা জীর্ণ নোট তুলে নেওয়া হয়।
কোন নোটের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য রয়েছে ৫০০ টাকার নোটের (৭,২৫,৭৫৫ লক্ষ নোট, যার মোট মূল্য ৩৬.২৯ লাখ কোটি টাকা)। এরপরেই রয়েছে ১০০ টাকার নোট। অন্যদিকে, বাজারে ২০০০ টাকার নোটের সংখ্যা এখন মাত্র ২৬৫টি।
কেন এই বিপুল পার্থক্য?
ডেপুটি গভর্নর মুর্মু জানান, ভারতে কম মূল্যের বা ছোট ছোট টাকার নোটের (যেমন ১০, ২০, ৫০, ১০০ টাকা) ব্যবহার বেশি। ফলে সমপরিমাণ মূল্যের লেনদেনের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সংখ্যক কাগজের নোটের প্রয়োজন হয়।
ভারতের ‘ক্যাশ প্যারাডক্স’ বা নগদ বিভ্রান্তি (Indian Rupee)
ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI)-এর ব্যাপক ব্যবহার বাড়লেও ভারতে নগদের চাহিদা কমেনি, যাকে বলা হচ্ছে ‘ক্যাশ প্যারাডক্স’। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারতে মোট নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়ে ৪২.৭৬ ট্রিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: SEBI Digital KYC: প্রবাসীদের জন্য নতুন ডিজিটাল KYC প্রস্তাব : ভারতে বিনিয়োগ সহজ করছে SEBI
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা কেনাবেচা ও জমি-বাড়ির মতো বড় লেনদেনে এখনও নগদ টাকাই বেশি পছন্দ করা হয়(Indian Rupee)। পাশাপাশি, সাইবার জালিয়াতির ভয়ে প্রবীণ নাগরিকরা নগদে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং নির্বাচনের সময়েও নগদের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।



