Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চিনের সাম্প্রতিক দাবিকে ঘিরে ভারত–চিন–পাকিস্তান ত্রিমুখী কূটনৈতিক টানাপোড়েন ফের তীব্র হল। অরুণাচল প্রদেশে নিজের দাবি নতুন করে তুলে ধরার কয়েক সপ্তাহ পর এবার চিন ভারতের শাক্সগাম উপত্যকার ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করল(Indo China)। এই শাক্সগাম উপত্যকা ১৯৪৭ সালে জম্মু ও কাশ্মীর আক্রমণের সময় পাকিস্তানের অবৈধ দখলে যায় এবং পরে ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান তা চীনের হাতে তুলে দেয়। ভারত শুরু থেকেই এই দাবি ও চুক্তিকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
‘শাক্সগাম উপত্যকা চিনের ভূখণ্ড’ (Indo China)
বেজিংয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, শাক্সগাম উপত্যকা চিনের ভূখণ্ড এবং ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তির ভিত্তিতেই এই এলাকা চিনের অন্তর্ভুক্ত। শাক্সগাম উপত্যকায় চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC)-এর অধীনে পরিকাঠামো নির্মাণ নিয়ে ভারতের আপত্তির জবাবে মাও নিং বলেন, “আপনি যে ভূখণ্ডের কথা বলছেন, তা চিনের। নিজের ভূখণ্ডে পরিকাঠামো উন্নয়ন করা চিনের সম্পূর্ণ অধিকার।”
সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সীমান্ত চুক্তি (Indo China)
মাও আরও বলেন, ১৯৬০-এর দশকে চিন ও পাকিস্তান সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সীমান্ত চুক্তি করেছিল এবং CPEC-এর লক্ষ্য স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
‘CPEC একটি বেআইনি উদ্যোগ’ (Indo China)
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। শাক্সগাম উপত্যকা পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের অংশ এবং ভারতের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড বলে নয়াদিল্লি দাবি করে। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী মঙ্গলবার বলেন, “১৯৬৩ সালের চিন–পাকিস্তান চুক্তিকে ভারত অবৈধ বলে মনে করে। তাই ওই এলাকায় কোনও কার্যকলাপ আমরা গ্রহণ করি না। CPEC-ও একটি বেআইনি উদ্যোগ।” এর আগেও বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, “চিন–পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি এবং CPEC—দুটিই ভারত স্বীকৃতি দেয় না। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন বিতর্ক (Indo China)
১৯৬৩ সালের চুক্তির ধারা ৬-এ বলা হয়েছিল, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর সমস্যা মীমাংসা হলে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হবে। ফলে চিনের বর্তমান দাবি আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



