Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : নতুন বছরের শুরুতেই ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে বড় সাফল্য ইসরোর (ISRO PSLV-C62)। সোমবার, ১২ জানুয়ারি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ হল পিএসএলভি-সি৬২ মিশন। ইসরোর অন্যতম ভরসাযোগ্য ও পরীক্ষিত রকেট পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল এই অভিযানে একসঙ্গে কক্ষপথে স্থাপন করবে একটি অত্যাধুনিক আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট এবং তার সঙ্গে আরও ১৪টি সহযাত্রী উপগ্রহ।

শ্রীহরিকোটার আকাশে পুনরাবৃত্তি (ISRO PSLV-C62)
রবিবার দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে শুরু হয় এই মিশনের কাউন্টডাউন। মোট ২২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের এই কাউন্টডাউন পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্নের পর, সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে শ্রীহরিকোটার প্রথম লঞ্চ প্যাড থেকে আকাশে উড়ে যায় প্রায় ২৬০ টন ওজনের পিএসএলভি-সি৬২ রকেট। গত বছর প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণের কারণে একটি উৎক্ষেপণ শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়েছিল ইসরোকে। সেই অভিজ্ঞতার পর এই মিশন সংস্থার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।
ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি (ISRO PSLV-C62)
এই অভিযানের মূল পে-লোড হল ‘ইওএস-এন১’, যার অপর নাম ‘অন্বেষা’। এটি একটি আধুনিক আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যা পৃথিবীর কয়েকশো কিলোমিটার উচ্চতায় সূর্য-সমলয় মেরু কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। এই উপগ্রহের মাধ্যমে উচ্চমানের ছবি সংগ্রহ করে দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, কৃষি পরিকল্পনা, বন ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং নগর উন্নয়নের মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তথ্য সরবরাহ করা হবে বলে ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে।

পৃথিবী পর্যবেক্ষণে নতুন চোখ (ISRO PSLV-C62)
মূল উপগ্রহের পাশাপাশি এই মিশনে নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেডের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের মোট ১৪টি ছোট উপগ্রহও কক্ষপথে পাঠানো হচ্ছে। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৭ মিনিটের মধ্যেই একে একে এই সমস্ত সহযাত্রী উপগ্রহ নির্দিষ্ট কক্ষপথে ছাড়া হবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ পরিষেবার ক্ষমতা আরও মজবুত হবে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলেও ইসরোর নির্ভরযোগ্যতা ফের একবার প্রমাণিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক মহাকাশে ভারতের দাপট (ISRO PSLV-C62)
পিএসএলভি-সি৬২ মিশনের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল কক্ষপথে পুনঃপ্রবেশ বা রি-এন্ট্রি প্রযুক্তির বাস্তব প্রদর্শন। উৎক্ষেপণের প্রায় দু’ঘণ্টা পর রকেটের চতুর্থ ধাপ বা পিএস৪ পুনরায় চালু করা হবে। সেই সময় ‘কেস্ট্রেল ইনিশিয়াল টেকনোলজি ডেমনস্ট্রেটর’ নামে একটি বিশেষ রি-এন্ট্রি ক্যাপসুলের ডি-বুস্ট ও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রত্যাবর্তনের পরীক্ষা চালানো হবে। স্পেনের একটি স্টার্টআপ সংস্থার তৈরি প্রায় ২৫ কেজি ওজনের এই ক্যাপসুল এবং পিএস৪ ধাপ, দু’টিই শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করবে বলে ইসরো সূত্রে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে পুনঃব্যবহারযোগ্য মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রি-এন্ট্রি প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা (ISRO PSLV-C62)
উল্লেখযোগ্যভাবে, পিএসএলভি রকেট এখনও পর্যন্ত ৬৩টি সফল মিশন সম্পন্ন করেছে। চন্দ্রযান-১, মঙ্গলযান এবং সাম্প্রতিক আদিত্য-এল১-এর মতো ঐতিহাসিক অভিযান বহন করেছে এই লঞ্চ ভেহিকল। পিএসএলভি-সি৬২ হবে তার ৬৪তম উৎক্ষেপণ, যা আবারও প্রমাণ করবে যে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির মেরুদণ্ড হিসেবে এই রকেট আজও কতটা নির্ভরযোগ্য।

আরও পড়ুন :Baghajatin Station: বাঘাযতীন স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আগুন
ভারতের মহাকাশ অভিযানে নতুন প্রত্যয়
সম্প্রতি এলভিএম-৩ রকেটে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী লো আর্থ অরবিট পে-লোড সফলভাবে বসানোর পর, পিএসএলভি-সি৬২ মিশনের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশের মহাকাশপ্রেমী মানুষ। নতুন বছরের শুরুতেই ইসরোর এই উৎক্ষেপণ ভারতের মহাকাশ অভিযানে আরও এক ধাপ অগ্রগতি এনে দেবে বলেই আশাবাদী বিজ্ঞানীমহল।



