Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ আলোচনার পর রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি বা এমওইউ (Jal Jeevan Mission)। এই চুক্তির মাধ্যমে ‘জল জীবন মিশন’-এর দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, শুধু নতুন প্রকল্প নয়, এদিন আগের সরকারের বিভিন্ন নীতিরও কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান পূর্বতন প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
জল জীবন মিশন (Jal Jeevan Mission)
মোদী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হল Jal Jeevan Mission। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের প্রত্যেক গ্রামীণ পরিবারে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই দেশের বহু রাজ্যে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। পশ্চিমবঙ্গেও বহু জেলায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের কাজ এগিয়েছে। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও বৃহৎ আকারে কাজ করার লক্ষ্যে নতুন আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, নতুন পর্যায়ে গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি জলসংকটপূর্ণ অঞ্চলগুলিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর্সেনিক ও ফ্লুরাইড আক্রান্ত এলাকায় নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়াই হবে প্রধান লক্ষ্য।
৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প (Jal Jeevan Mission)
এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হবে মূলত, নতুন পাইপলাইন বসানো, জল পরিশোধন কেন্দ্র নির্মাণ, প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি বাড়ি জল সংযোগ, পুরনো পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, জল সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, রাজ্য প্রশাসনের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লক্ষ লক্ষ পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। পাশাপাশি বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

নামবদল বিতর্কে তীব্র আক্রমণ (Jal Jeevan Mission)
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ভাষায় আগের সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “মাঝখান থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলে ‘জল স্বপ্ন’ করে দেওয়া হয়েছিল। ভারত সরকারের কোনও প্রকল্পের নাম বদল করার ক্ষমতা কোনও রাজ্য সরকারের নেই।” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের যথাযথ কৃতিত্ব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা উচিত। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজ্যের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা হয়েছিল।
কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নতুন বার্তা (Jal Jeevan Mission)
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এত বড় আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় উন্নয়নমূলক কাজে নতুন গতি আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পানীয় জল সংক্রান্ত প্রকল্প সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জনজীবনে বড় পরিবর্তন আসবে।

আরও পড়ুন: Derby 2026: আইএসএল ভাগ্য নির্ধারণের ডার্বি! উন্মাদনায় ফুটছে বাংলা
গ্রামীণ বাংলার ভবিষ্যতের জন্য বড় পদক্ষেপ
পশ্চিমবঙ্গের বহু এলাকায় এখনও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে জঙ্গলমহল, সুন্দরবন ও উত্তরবঙ্গের কিছু অঞ্চলে জলসংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে জল জীবন মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়িত হলে বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পাইপলাইন তৈরি করলেই হবে না, ভবিষ্যতের কথা ভেবে জল সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।



