Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মঙ্গলবার জাপানের পশ্চিম চুগোকু অঞ্চলে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে (Japan Earthquake)। ভূমিকম্পের মূল কম্পনের পরপরই একাধিক বড় ধরনের আফটারশক অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। যদিও কম্পনের তীব্রতা যথেষ্ট বেশি হলেও এখন পর্যন্ত জাপানে কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

শিমানে এলাকায় ‘আপার-৫’ (Japan Earthquake)
জাপানে ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের জন্য যে ১ থেকে ৭ মাত্রার বিশেষ স্কেল ব্যবহার করা হয়, সেই অনুযায়ী শিমানে এলাকায় এই ভূমিকম্পের তীব্রতা নথিভুক্ত হয়েছে ‘আপার-৫’ মাত্রায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্তরের ভূমিকম্পকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হিসেবেই ধরা হয়। এর ফলে ঘরের আসবাবপত্র নড়াচড়া করা, দেওয়ালে ফাটল ধরা কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল (Japan Earthquake)
জানা গিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পূর্ব শিমানে প্রিফেকচার। উদ্বেগের বিষয় ছিল এই যে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত শিমানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনা করে চুগোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার সংস্থা। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের পরেও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট স্বাভাবিকভাবেই কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি, জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে ভূমিকম্পের ফলে কোনওরকম প্রযুক্তিগত বা নিরাপত্তাজনিত অনিয়ম ধরা পড়েনি।

বন্ধ শিনকানসেন পরিষেবা (Japan Earthquake)
ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে জাপানের পরিবহণ ব্যবস্থাতেও। পশ্চিম জাপান রেলওয়ে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে শিন-ওসাকা ও হাকাতার মধ্যে শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। রেলপথ ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখার পরই পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান (Japan Earthquake)
জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়ে থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের ৬ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের মোট ঘটনার প্রায় এক-পঞ্চমাংশই ঘটে জাপানে। ফলে ভূমিকম্প মোকাবিলায় জাপানের প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো বিশ্বের মধ্যে অন্যতম উন্নত।

আরও পড়ুন: Rice: চিনকে পিছনে ফেলে চাল উৎপাদনে বিশ্বসেরা ভারত: দাবি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর
বর্তমান পরিস্থিতি
২০১১ সালের মার্চ মাসে ফুকুশিমায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির জেরে ঘটে যাওয়া পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর জাপানের সমস্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ পর্যালোচনা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার শিমানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট ফের চালু করা হয়। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হলেও, কর্তৃপক্ষের আশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।



