Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বীরভূমের(Birbhum) প্রাচীন সতীপীঠ কঙ্কালীতলা(Kankalitala)। কালীপুজো মানেই এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ। প্রতিবছরের মতো আজ দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র কঙ্কালীতলা মন্দির এলাকা। তন্ত্রমতে অনুষ্ঠিত এই পূজা ঘিরে ভোর থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি।
বীরভূমের তন্ত্রপীঠে দীপান্বিতা অমাবস্যার বিশেষ তাৎপর্য(Kankalitala)
বীরভূম জেলার অন্যতম প্রাচীন সতীপীঠ কঙ্কালীতলা(Kankalitala) মন্দিরে দীপান্বিতা অমাবস্যায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ কালীপূজা। ৫১ সতীপীঠের অন্যতম সতীপীঠ বীরভূমের কঙ্কালীতলা। কথিত আছে লাল মাটির এই অঞ্চলেই পড়েছিল দেবীর কাঁকাল অর্থাৎ কোমরের অংশ। রীতিনীতি মেনে প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এই কুমারী পুজো চলে আসছে কঙ্কালিতলায়। এই পবিত্র দিনে লক্ষাধিক ভক্ত সমবেত হন দেবীর কৃপালাভের আশায়। শুধু বীরভূম নয়, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে আসেন ভক্ত, তান্ত্রিক ও সাধকরা। অমাবস্যা রাতের ঘোর অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে দেবীর আরাধনায় মগ্ন হন তাঁরা।

তন্ত্রমতে কালীপূজার আয়োজন(Kankalitala)
এই পূজা মূলত তান্ত্রিক মতে অনুষ্ঠিত হয়। ভোরবেলাতেই মন্দির চত্বরে শুরু হয়ে যায় পূজার প্রস্তুতি। ভক্তরা সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন মায়ের দর্শনের আশায়। মন্দিরের পুরোহিত ও তান্ত্রিকরা একযোগে প্রস্তুত করেন দেবীর পূজার সামগ্রী, বিশেষভাবে সাজানো হয় মণ্ডপ।

আরও পড়ুন: Weather: কালীপুজোর দিনে ফের বৃষ্টির আশঙ্কা, দক্ষিণবঙ্গের ৩ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি!
সন্ধ্যায় রাজবেশে দেবীর আরাধনা(Kankalitala)
দুপুরের সময় দেবী কঙ্কালীকে নিবেদন করা হয় বিশেষ ভোগ। এই ভোগে থাকে চাল, ডাল, লাবড়া, পায়েস এবং মিষ্টান্ন। সন্ধ্যা নামতেই দেবীকে সাজানো হয় রাজকীয় বেশে। লাল বেনারসি, সোনার অলংকার, শঙ্খ ও সিঁদুরে সজ্জিত হয়ে কঙ্কালীতলার কালী যেন জীবন্ত রূপে বিরাজমান হন। এই সময় মন্দির চত্বরে ঢাক, কাঁসর, শঙ্খধ্বনিতে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়।
রাতভর নিশিপূজা, চলে হোমযজ্ঞ
দীপান্বিতা অমাবস্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিশিপূজা। মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে তা চলে ভোর পর্যন্ত। তন্ত্রসাধকরা আগুন জ্বালিয়ে শুরু করেন তাঁদের বিশেষ সাধনা। পাশাপাশি চলে হোমযজ্ঞ ও বলিপূজা। অনেক ভক্ত পাঁঠা বলি দিয়ে কালীমায়ের আরাধনা করেন। তান্ত্রিক মতে, এই বলি পাপ বিনাশের প্রতীক।

তান্ত্রিকদের মিলনমেলা, রাতভর জপ ও তন্ত্রসাধনা
এই পবিত্র রাতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত বহু তান্ত্রিক ও সাধক একত্রিত হন কঙ্কালীতলায়। তাঁরা রাতভর চলে জপ, ভক্তিসংগীত ও তন্ত্রসাধনায় নিমগ্ন থাকেন। মন্দির চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ধূপ-ধুনোর গন্ধ, আর আধ্যাত্মিক পরিবেশে তৈরি হয় এক অনন্য অনুভূতি।


