Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে শুরু হল ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা (Kolkata Bookfair 2026)। উদ্বোধনী মঞ্চে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বই, সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে কেন্দ্র করে যে উৎসবের আবহ তৈরি হওয়ার কথা, সেই মঞ্চ থেকেই উঠে এল সমকালীন রাজনীতির অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR। বইমেলার উদ্বোধন যেন পরিণত হল গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে এক স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তায়।

ভোটার তালিকা সংশোধন (Kolkata Bookfair 2026)
বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় SIR প্রক্রিয়া। নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে এই বিশেষ সংশোধনকে শুরু থেকেই ‘অপরিকল্পিত’ ও ‘অমানবিক’ বলে আক্রমণ করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এক সময় নির্বাচন মানে ছিল জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। কে ভোট দেবে, কে প্রতিনিধিত্ব করবে তা নির্ধারণ করত মানুষই। কিন্তু এখন নির্বাচন কমিশন আগেভাগেই ঠিক করে দিচ্ছে কাকে তালিকায় রাখা হবে, কাকে বাদ দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
অমর্ত্য সেন থেকে জয় গোস্বামী (Kolkata Bookfair 2026)
SIR প্রক্রিয়ার আওতায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও কবি জয় গোস্বামীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ‘শুনানি প্রক্রিয়ায় হাজিরা’ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সামাজিক দায়বদ্ধতার দর্শন,
“আমার ঘরে আগুন লাগেনি বলে আমি চুপ থাকতে পারি না। পাশের বাড়িতে আগুন লাগলে সেটাও আমার সমস্যা।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে মমতা বোঝাতে চান, ভোটার তালিকার এই সংশোধন শুধু কয়েকজন ব্যক্তির সমস্যা নয়, এটি সমগ্র সমাজ ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত।

রাজনীতি ও কবিতার সংলাপ (Kolkata Bookfair 2026)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতির পাশাপাশি একজন লেখক হিসেবেও সুপরিচিত। প্রতি বছর বইমেলায় তাঁর নতুন বই প্রকাশিত হয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর মোট প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৫৩। চলতি বইমেলায় প্রকাশিত হবে আরও ৯টি নতুন বই। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল SIR প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে তিনি কবিতাও লিখেছেন। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে তিনি লিখেছেন ২৬টি কবিতা। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক জীবনের অনেক কথা তিনি বইয়ে তুলে ধরেছেন ঠিকই, তবে সবটা বলেননি। কারণ সব কথা বলে দিলে হৃদয়ের সঞ্চিত ভাণ্ডার শূন্য হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ (Kolkata Bookfair 2026)
কলকাতা বইমেলা কেবল সাহিত্য উৎসব নয়, এটি এক বিশাল সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বটে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বইমেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লক্ষ, বই বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২৩ কোটি টাকা, এ বছর সেই রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা, মোট ১১০০টি স্টল বসেছে, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে, এ বছরের বইমেলায় ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, পেরু-সহ মোট ২০টি দেশ অংশগ্রহণ করছে, যা মেলার আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও জোরদার করছে।

আরও পড়ুন: Panchayat: আসছে পঞ্চায়েত সিজন ৫: শেষ ধাপে কোন গল্প শোনাবেন সচিবজি, বিনোদরা?
‘বইতীর্থ’ নির্মাণ
আগামী বছর কলকাতা বইমেলা ৫০ বছরে পা দেবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে পাবলিশার্স ও বুক সেলার্স গিল্ডের তরফে একটি স্থায়ী ‘বইতীর্থ’ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। তিনি জানান, গিল্ডকে বিষয়টি নিয়ে একটি অফিসিয়াল আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। এই ‘বইতীর্থ’ ভবিষ্যতে শুধু বইমেলার স্মারক নয়, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার এক স্থায়ী কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেই আশা।



