Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: লাদাখের পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে(Ladakh Unrest)। জম্মু-কাশ্মীর থেকে পৃথক হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের পূর্ণ রাজ্যত্ব ও ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সহিংসতার পর তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) অনুযায়ী গ্রেপ্তার করে রাজস্থানের যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তান-যোগ ও বিদেশি যোগাযোগ (Ladakh Unrest)
শনিবার লাদাখ (Ladakh) পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ এস ডি সিং জামওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, ওয়াংচুকের পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে(Ladakh Unrest)। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এক পাক গোয়েন্দা আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর সংযোগ ছিল বলেও জানান তিনি। শুধু তাই নয়, ওয়াংচুক পাকিস্তানের Dawn পত্রিকার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এই তথ্যকে ঘিরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পুলিশপ্রধান।
হিংসার জন্য দায়ী করা হল ওয়াংচুককে
গত ২৪ সেপ্টেম্বর লেহ-তে বিক্ষোভ চলাকালীন ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত চারজন প্রাণ হারান এবং প্রায় ৮০ জন আহত হন(Ladakh Unrest)। স্থানীয় বিজেপি দফতর ও কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের অভিযোগ, ওয়াংচুকের উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং আরব বসন্ত কিংবা নেপাল-সংক্রান্ত উদাহরণ টেনে বক্তব্য দেওয়া জনতার মধ্যে অস্থিরতা বাড়ায়। এর জেরেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে।
ষড়যন্ত্রে বিদেশি অর্থ ও প্ররোচনা(Ladakh Unrest)
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, ওয়াংচুকের প্ররোচনাতেই বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে(Ladakh Unrest)। তদন্তকারীরা তাঁর প্রতিষ্ঠিত সেকমল (SECMOL) সংস্থার বিদেশি তহবিলের খোঁজ নিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশি অনুদানের ক্ষেত্রে ফোরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (FCRA) লঙ্ঘন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংস্থার এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করেছে কেন্দ্র।
সমঝোতার পথে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ
ডিজিপি জামওয়ালের দাবি, লেহ এপেক্স বডি (LAB) ও কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (KDA)-এর সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনার প্রক্রিয়া চলছিল(Ladakh Unrest)। কিন্তু ওয়াংচুক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ‘তথাকথিত পরিবেশবাদী কর্মী’ সেই আলোচনায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “এই আন্দোলনকে কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছিলেন, ওয়াংচুক তার অন্যতম।”

আরও পড়ুন : Shashi Tharoor : সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি, এক বছরের মেয়াদ বেড়ে হবে দুই
আন্দোলনের পটভূমি(Ladakh Unrest)
১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক(Ladakh Unrest)। তাঁর দাবি ছিল—লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যত্ব দেওয়া হোক এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। ১৫ দিনের অনশন শেষে তিনি তা ভাঙলেও সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ পথে থাকার আহ্বান জানান। তবে, পুলিশ ও প্রশাসনের মতে, যুব সমাজের একাংশের ‘আবেগী আচরণে’ পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।
লাদাখে রাজ্যত্বের দাবিতে আন্দোলন নতুন নয়, তবে এবার তার সঙ্গে সহিংসতা, বিদেশি যোগাযোগ ও তহবিল সংক্রান্ত অভিযোগ জড়ানোয় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন—তদন্তে কী উঠে আসে, এবং আন্দোলনের ভবিষ্যৎ পথ কোন দিকে মোড় নেয়।


