Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা জুড়ে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ লাগামছাড়া (Malaria)। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ১০ অগস্ট পর্যন্ত শহরে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১,১৫৬ জন। কিন্তু পরবর্তী সময়, অর্থাৎ ১০ অগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র পৌনে দু’মাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩,০৭৪ জন। অর্থাৎ, শেষ দুই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম সাত মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে শুধু গত চার সপ্তাহেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় এক হাজার জন।

আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অজ্ঞানতা (Malaria)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যালেরিয়া বৃদ্ধির নেপথ্যে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে,
- আবহাওয়ার তারতম্য: অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত মশার বংশবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করছে।
- সচেতনতার অভাব: অনেকেই এখনও জল জমিয়ে রাখছেন, মশারি ব্যবহার করছেন না।
- পুজো উদ্যোক্তাদের উদাসীনতা: নির্দেশিকা জারি থাকা সত্ত্বেও মশাবাহিত রোগের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সতর্কতা নেওয়া হয়নি।
পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, (Malaria)
“বারবার বলার পরেও অনেক বাসিন্দা জল জমিয়ে রাখার অভ্যাস ছাড়তে পারছেন না।” অন্যদিকে, নাগরিকদের একাংশ আবার পুরসভার দিকে আঙুল তুলেছেন, তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই বাড়ছে ম্যালেরিয়া।
এখন সারা বছরই ম্যালেরিয়া!
কলকাতার বর্তমান জলবায়ুতে সারা বছর ধরেই ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ঘটছে, এমনটাই বলছেন পতঙ্গবিদরা। তাঁদের মতে, বাতাসে আর্দ্রতা ক্রমাগত বাড়ছে, ফলে অ্যানোফেলিস মশার প্রজনন প্রক্রিয়া অব্যাহত।
তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন,
- প্রশাসনের উচিত বছরভর নজরদারি চালানো,
- এবং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের শুরুতে সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় নজরদারিতে কিছুটা ঢিলেমি এসেছিল, ফলে ‘পিক সিজ়নে’ রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে।
কলকাতা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ (Malaria)
গত বছর পুরসভা ৬৯টি ওয়ার্ডকে ‘অতি ম্যালেরিয়া-প্রবণ’ বলে চিহ্নিত করেছিল। এ বছর তুলনামূলকভাবে ১১টি ওয়ার্ডকে ‘স্পর্শকাতর’ ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার তুলনায় উত্তর ও মধ্য কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। বিশেষত নির্মীয়মাণ বহুতলগুলিতে বেশি পরিমাণে জল জমে থাকার কারণে সেগুলিতে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ৮টি নির্মীয়মাণ আবাসনে পুরসভা অভিযান চালিয়ে ৩টিতে জমা জলের খোঁজ মিলেছে।
কখন কামড়ায় ও কোথায় জন্মায় (Malaria)
পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ জানিয়েছেন, “ম্যালেরিয়ার বাহক স্ত্রী অ্যানোফেলিস মশা মূলত রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে কামড়ায়।” তিনি আরও বলেন, “এই মশার লার্ভা সাধারণত ছাদে বা উপরের তলায় জমা জলে বেশি জন্মায়।” অ্যানোফেলিস মশা বৃষ্টির জল ও খোলা জায়গা পছন্দ করে। তাই শহরের বিভিন্ন ছাদ, খোলা মাঠ বা ফাঁকা জায়গায় যেখানে বৃষ্টির জল জমার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলিতে নিয়মিত নজরদারি এবং রাসায়নিক স্প্রে করা হচ্ছে বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: Horoscope: এই সপ্তাহে কুম্ভ ও মীন রাশির জন্য কী অপেক্ষা করছে?
প্রতিরোধে কী করণীয়
- জমা জল একটানা ৩ দিনের বেশি না রাখার চেষ্টা করতে হবে।
- মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো বাধ্যতামূলক করা উচিত।
- ছাদ, বাথরুম, বারান্দা ও ফুলের টবে জল জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
- স্থানীয় পুরসভা ওয়ার্ড অফিসে মশা সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো ও স্প্রে কার্যক্রমের খোঁজ রাখা দরকার।



