Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ এবার হতে চলেছে অতীত। নির্বাচনের কমিশনের নির্দেশে ফ্রিজ হয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম। কালীঘাট-তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূলের দড়ি টানাটানিতে ফ্রিজ করা হয়েছে জোড়াফুল প্রতীকের ব্যবহারও। এখন বিকল্প নাম-প্রতীক (New Symbol) খুঁজতে ব্যস্ত তৃণমূলের দুই পক্ষই।
সামনেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন (By-Eolection)। সংকট তৈরি হয়েছে উপনির্বাচনে প্রার্থীর ‘ফর্ম বি’ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে। রেজিনগর কেন্দ্রে অরূপ রায়ের অনুমোদন নিয়ে সফিউজ্জামান শেখ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরে রবিউল আলম চৌধুরী, দু’জনেই নিজেকে তৃণমূল প্রার্থী বলে দাবি করেছেন। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে একই ঝামেলা! অরূপ রায়ের অনুগামী এহতেশমুল হক বনাম কালীঘাট পন্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। সংঘাতের আবহেই নতুন লড়াই। ভোটের ময়দানে আর জোড়াফুল নয়। সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়ে (New Symbol) মাঠে নামতে হবে মমতার তৃণমূল ও ঋতব্রত শিবিরকে।
১৮৪টি মুক্ত প্রতীকের গোলকধাঁধা (New Symbol)
১৯৬৮ সালের ‘ইলেকশন সিম্বলস (রিজার্ভেশন অ্যান্ড অ্যালটমেন্ট) অর্ডার’-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে দুই শিবিরকেই নতুন নাম ও চিহ্ন বেছে নিতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মুক্ত প্রতীকের তালিকায় রয়েছে ১৮৪টি বিচিত্র চিহ্নের সম্ভার (New Symbol)। কোনও রাজকীয় চিহ্ন নয়, তালিকায় ভিড় করে রয়েছে প্রতিদিনের গৃহস্থালি আর অদ্ভূত সব জিনিসপত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও ঋতব্রত শিবিরকে কমিশন থেকে বরাদ্দ ৩টি করে পছন্দের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রতীক বিভাগতালিকায় থাকা সম্ভাব্য বিকল্পসমূহ
- দৈনন্দিন জিনিস: চিরুনি, বালতি, বেলুন, কাঁচি, কেটলি, টুপি, সেলাই মেশিন, চশমা
- সবজি ও খাবার: ফুলকপি, আপেল, গাজর, কেক, পাউরুটি, ক্যাপসিকাম, আঙুর
- গৃহস্থালি সামগ্রী: আলমারি, ফ্রিজ, প্রেশার কুকার, মিক্সি, প্রদীপ, টেবিল ল্যাম্প
- প্রযুক্তি: কম্পিউটার, দূরবীন, ক্যালকুলেটর, ক্যামেরা, টিভি, সিসিটিভি
আরও পড়ুন: TMC Symbol: কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি, তবু নতুন নাম-প্রতীক জমা দিল কালীঘাট
প্রতীক (New Symbol), ব্যালট পেপারের দেওয়াল লিখন বা আইকন নয়, সাধারণ ভোটারের সঙ্গে দলের আত্মিক সংযোগ তৈরি করে। ১৯৯৮ সালে নিজের হাতে আঁকা যে প্রতীককে শক্ত ভিত্তি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন, উপনির্বাচনে তা উধাও। এখন স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন এক অচেনা প্রতীক সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া উভয় শিবিরের জন্যই এক বিশাল টেকনিক্যাল ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার, ঘাস-ফুলের লড়াইয়ে কমিশনের মুক্ত প্রতীক থেকে কার হাতে শোভা পায় ‘আপেল’ কিংবা ‘ফুলকপি’, আর সেই নতুন চিহ্নকে হাতিয়ার করে উপনির্বাচনের বৈতরণী কে পার হতে পারেন!


