Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পৃথিবী প্রকৃতির অসীম বৈচিত্র্যে ভরপুর (McMurdo Dry Valleys)। এখানে উষ্ণ মরুভূমির তপ্ত বালি যেমন আছে, তেমনি বরফে ঢাকা হিমালয় কিংবা অ্যান্টার্কটিকার মতো শীতল অঞ্চলও আছে। কিন্তু এই বৈচিত্র্যের মাঝেও কিছু স্থান এমন রয়েছে, যেগুলিকে পৃথিবীর বাইরে থাকা গ্রহগুলির সঙ্গে তুলনা করা যায়। বিশেষত, মঙ্গল গ্রহের সঙ্গে। পৃথিবীতে এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেগুলি একই সঙ্গে অত্যন্ত ঠান্ডা, শুষ্ক ও প্রাণহীন ঠিক যেমন মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ। এই অঞ্চলগুলিকে বিজ্ঞানীরা “প্রাকৃতিক পরীক্ষাগার” হিসেবে ব্যবহার করেন, মঙ্গল গ্রহে জীবনের সম্ভাবনা এবং পরিবেশগত শর্ত অধ্যয়নের জন্য।

পৃথিবীর ঠান্ডা মরুভূমি কোনটা! (McMurdo Dry Valleys)
অ্যান্টার্কটিকার বরফাচ্ছন্ন মহাদেশে এক বিস্ময়কর স্থান আছে ম্যাকমুর্ডো ড্রাই ভ্যালিজ বা ম্যাকমুর্ডো উপত্যকা। নামের সঙ্গে “বরফ” যুক্ত হলেও, বাস্তবে এটি পৃথিবীর অন্যতম সবচেয়ে শুষ্ক ও বরফহীন অঞ্চল। এখানে প্রায় ২০ লক্ষ বছর ধরে বৃষ্টি বা তুষারপাত হয়নি বলে মনে করা হয়। এই উপত্যকা অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত, এবং এখানকার পরিবেশ এতটাই চরম যে অধিকাংশ প্রাণের অস্তিত্ব টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। মাটি জমাটবদ্ধ, বাতাস হিমশীতল, আর্দ্রতা প্রায় শূন্য, এবং সূর্যালোকের পরিমাণও অত্যন্ত সীমিত।
কেন এত শুষ্ক এই অঞ্চল? (McMurdo Dry Valleys)
ম্যাকমুর্ডো উপত্যকা শুষ্ক থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হল “ক্যাটাব্যাটিক উইন্ডস”। এই বায়ুপ্রবাহ অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা উচ্চভূমি থেকে নেমে আসে, যার গতি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই বাতাস এতটাই ঠান্ডা ও তীব্র যে মাটির ওপরের সমস্ত বরফ ও আর্দ্রতা উড়িয়ে দেয়। ফলে এখানে বরফ থাকলেও প্রকৃত আর্দ্রতা প্রায় নেই। বিজ্ঞানীরা বলেন, এখানে তাপমাত্রা -৩০°C থেকে -৫০°C পর্যন্ত নেমে যায়, এবং বাতাসের শুষ্কতা এমন যে জলবিন্দু মাটিতে পড়ার আগেই বাষ্প হয়ে যায়।
মঙ্গলের পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি (McMurdo Dry Valleys)
নাসা এবং ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলি এই অঞ্চলকে মঙ্গলের বিকল্প পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। কারণ ম্যাকমুর্ডো উপত্যকার পরিবেশগত শর্তগুলি,
- অতি নিম্ন তাপমাত্রা,
- তীব্র শুষ্কতা,
- পাতলা বায়ুমণ্ডল,
- সীমিত সূর্যালোক,
মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা এখানে মঙ্গলের রোবটিক রোভার, জীবাণু অনুসন্ধানকারী যন্ত্র এবং মাটি বিশ্লেষণ প্রযুক্তি পরীক্ষা করেন। এই অঞ্চলের মাটিতে জীবনের চিহ্ন খোঁজার প্রচেষ্টা, আসলে মঙ্গলে জীবনের সম্ভাবনা যাচাইয়েরই অংশ।
ম্যাকমুর্ডো উপত্যকার মাটি (McMurdo Dry Valleys)
যদিও এই উপত্যকা প্রায় প্রাণহীন, তবু বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন কিছু অতি-সহনশীল অণুজীব, যারা বরফের নিচে, শুষ্ক লবণাক্ত মাটিতে বেঁচে থাকে। এই মাইক্রোবদের জীবনচক্র, খাদ্য ও শক্তি অর্জনের পদ্ধতি গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করেন, মঙ্গলে যদি কোনওভাবে জীবন থাকে, তবে তা কেমন হতে পারে। এই গবেষণা থেকেই উঠে এসেছে “অ্যাস্ট্রোবায়োলজি” নামে একটি নতুন বিজ্ঞান শাখা, যা পৃথিবীর বাইরের গ্রহগুলিতে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করে।
মঙ্গলে অভিযানের প্রস্তুতি এখানেই (McMurdo Dry Valleys)
নাসার “মার্স রোভার” এবং “পারসিভারেন্স” প্রকল্পের অনেক উপকরণ ম্যাকমুর্ডো উপত্যকায় পরীক্ষিত হয়েছে। রোবটের সেন্সর, ক্যামেরা, ও মাটি খননের যন্ত্র এখানে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল, কারণ এই অঞ্চলের মাটি মঙ্গলের মতোই শক্ত, শুষ্ক ও খনিজে সমৃদ্ধ। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, ম্যাকমুর্ডো উপত্যকায় যেমন কিছু অণুজীব টিকে আছে, তেমনি মঙ্গলের ভূগর্ভেও হয়তো এমন অতি-সহনশীল জীবনের অস্তিত্ব থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: Bharti Singh: ভারতী পুত্র গোলার নতুন সঙ্গী! কবে আসছে খেলার সাথী?
পৃথিবী থেকে মঙ্গলের পথ
অ্যান্টার্কটিকার এই শুষ্ক ও ঠান্ডা উপত্যকা আমাদের শেখায়, জীবন কেবল উষ্ণ ও আরামদায়ক পরিবেশেই টিকে থাকতে পারে না; প্রকৃতি সবসময়ই তার পথ খুঁজে নেয়। ম্যাকমুর্ডো উপত্যকা তাই শুধু পৃথিবীর রহস্য নয়, বরং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা অনুসন্ধানের এক মহামূল্যবান জানালা।



