Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা জোরদার করতে বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে (Deepika Padukone) দেশের প্রথম মানসিক স্বাস্থ্য দূত (Mental Health Ambassador) হিসেবে নিয়োগ করেছে। এই ঘোষণা আসার পর থেকেই সমাজের নানা স্তরে প্রশংসার স্রোত বয়ে গেছে।
মানসিক স্বাস্থ্য প্রচারে দীপিকা (Mental Health Ambassador)
স্বাস্থ্য মন্ত্রক সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, দীপিকা এই দায়িত্ব গ্রহণ করে গভীর সম্মান প্রকাশ করেছেন এবং ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন (Mental Health Ambassador)। তিনি বলেন, “আমি গর্বিত এই দায়িত্ব নিতে পেরে। মানসিক সুস্থতা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি একান্ত প্রয়োজনীয়তা।”
দীপিকা পাড়ুকোন দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রচারক হিসেবে কাজ করে আসছেন। ২০১৫ সালে তিনি নিজেই ‘The Live Love Laugh Foundation’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা দেশের নানা প্রান্তে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে।
মোদির নেতৃত্বে মানসিক সুস্থতার অগ্রযাত্রা
স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে যে সচেতনতা ও কাঠামোগত উন্নতি হয়েছে, দীপিকার অংশগ্রহণ সেই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে (Mental Health Ambassador)।
ভারতে বর্তমানে ‘National Mental Health Programme’ ও ‘Tele-MANAS initiative’-এর মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দীপিকার সঙ্গে এই সহযোগিতা এই কর্মসূচিগুলিতে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সচেতনতা বৃদ্ধি ও কুসংস্কার দূরীকরণ
এই নতুন সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা এবং মানুষকে চিকিৎসার পথে আনতে উৎসাহিত করা (Mental Health Ambassador)।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানান, দীপিকার জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁকে এই ভূমিকায় যথাযথ করে তুলেছে। “মানুষ তাঁকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখে। তাঁর কথা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা শুরু করতে সাহায্য করবে,” বলেন তিনি।

আরও পড়ুন : Khurelsukh Ukhnaa Visit India : ভারত সফরে মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খুরেলসুখ, আলোচনায় থাকবে কোন কোন বিষয়?
সমাজে ইতিবাচক বার্তা (Mental Health Ambassador)
দীপিকার নিয়োগ শুধু চলচ্চিত্র জগতের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক বার্তা— যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা লজ্জার নয় (Mental Health Ambassador)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীপিকার মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বকে এ ধরনের উদ্যোগে যুক্ত করা মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভারতে যেখানে এখনও মানসিক অসুস্থতাকে নিয়ে লজ্জা ও নীরবতা রয়েছে, সেখানে দীপিকা পাড়ুকোনের এই নতুন দায়িত্ব একটি ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
তিনি যেমন নিজে মানসিক অবসাদের অভিজ্ঞতা খোলাখুলি ভাগ করে সমাজে সাহস জুগিয়েছেন, তেমনি এবার সরকারিভাবে দেশের মানসিক স্বাস্থ্য প্রচারের মুখ হয়ে উঠলেন।
সব মিলিয়ে, দীপিকা পাড়ুকোনের এই ভূমিকা ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


