Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২৯ জুলাই মোহনবাগান মাঠে ঐতিহ্যবাহী পতাকা উত্তোলন এবং প্রদর্শনী ম্যাচের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হলেও, বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে সম্পন্ন হয় মূল সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব। এদিনের মঞ্চে প্রয়াত সচিব অঞ্জন মিত্রকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ সম্মান ‘মোহনবাগান রত্ন’ প্রদান করা হয়, যার সূচনা তিনি নিজেই ২০০১ সালে করেছিলেন।
ক্লাবের প্রতি আজীবন অবদানের সার্থক স্বীকৃতি (Mohun Bagan Day)
অঞ্জন মিত্রের স্ত্রী সুজাতা মিত্রের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তির মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁর স্ত্রী ও কন্যা সোহিনী মিত্র। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে মোহনবাগান রত্নের পুরস্কারমূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত আর্থিক অনুদান যুক্ত করে তা ক্লাবের মালিদের হাতে তুলে দিয়ে এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়।
প্রশাসক হিসেবে এক স্বর্ণযুগের প্রতীক (Mohun Bagan Day)
১৯৭৫ সালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে পাঁচ গোলে হারের হতাশা থেকে ক্লাব প্রশাসনের হাল ধরার স্বপ্ন দেখেছিলেন অঞ্জন মিত্র। ধীরেন দে-র হাত ধরে পাঁচ বছর হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করার পর টানা ২৩ বছর সচিবের দায়িত্ব সামলান তিনি। তাঁর আমলেই দেশীয় ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশিদের দলে টানার সাহসী পদক্ষেপ নেয় মোহনবাগান।
পেশাদার পরিকল্পনা ও তারকার মেলা
আবেগের পাশাপাশি পেশাদার পরিকল্পনা এবং স্পেশাল স্পনসরের গুরুত্ব বুঝেছিলেন অঞ্জন মিত্র। তাঁর উদ্যোগেই কলকাতায় পা রেখেছিলেন ফিফা সভাপতি শেপ ব্লাটার ও দিয়েগো মারাদোনা। এ ছাড়া দুর্গাপুরে মোহনবাগান সেল ফুটবল অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং মহিলা ফুটবল দল গঠন তাঁর দূরদর্শিতারই বড় প্রমাণ।
ময়দানের ‘অঞ্জনদা’
আইএফএ বা এআইএফএফের ক্লাব স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই সরব হতেন অঞ্জন মিত্র। তাঁর এই আপসহীন মনোভাব তাঁকে শুধু মোহনবাগানের সচিবের গণ্ডিতে আটকে রাখেনি, বরং তিনি হয়ে উঠেছিলেন গোটা ময়দানের শ্রদ্ধার পাত্র ‘অঞ্জনদা’। নিজের হাতে গড়া মঞ্চেই এই মরণোত্তর সম্মানপ্রাপ্তি এক ঐতিহাসিক পরিণতি।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্ষসেরা ও বিশেষ পুরস্কার তালিকা
অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ মরশুমের সেরা ফুটবলার (শিবদাস ভাদুড়ি পুরস্কার) নির্বাচিত হন আলবার্তো রডরিগেজ। এ ছাড়া সেরা ফরোয়ার্ড লিস্টন কোলাসো, সেরা যুব ফুটবলার সুহেল আহমেদ ভাট এবং সেরা ক্রীড়া সাংবাদিকের (মতি নন্দী পুরস্কার) সম্মান পান গৌতম ভট্টাচার্য।
একাধিক কৃতি ব্যক্তিত্বের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া (Mohun Bagan Day)
ক্রীড়ার বিভিন্ন বিভাগেও সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়; যার মধ্যে হকিতে মহম্মদ রহিল মহসিন, ক্রিকেটে অভিষেক রমন এবং সেরা রেফারি হিসেবে সাগর সেন অ্যাওয়ার্ড পান। পাশাপাশি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসিত চট্টোপাধ্যায়কে ক্লাবের সহ-সভাপতি হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: India Asian Cup: সেপ্টেম্বরে বড় মঞ্চে মাঠে নামছে ভারত
বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি ও উন্মাদনা
নেতাজি ইন্ডোরের এই জমকালো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রথীন্দ্রনাথ বসু, তাপস রায়, কল্যাণ চৌবে ও ইন্দ্রনীল খাঁ-র মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ মোহনবাগান সমর্থকদের ভারতের “সবচেয়ে জীবন্ত সমর্থক” বলে অভিহিত করেন।
গ্রিক কোচের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
অনুষ্ঠানে মোহনবাগান (Mohun Bagan Day) কোচ প্যানাজিওটিস ডিলম্পেরিসকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়, যেখানে ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত তাঁর হাত ধরে ডুরান্ড ও আইএসএল জয়ের আশাপ্রকাশ করেন। জয়তী চক্রবর্তীর গাওয়া ‘আমাদের সূর্য মেরুন’ গান দিয়ে শুরু এবং পরিশেষে সুদেশ ভোঁসলের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছায়।


