Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাইকোর্টে আবারও স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ভবানীপুর, কালীতলা, বিষ্ণুপুর সহ একাধিক থানায় যে সমস্ত মামলা দায়ের হয়েছে, সেই সমস্ত মামলায় অভিষেককে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য (High Court)। আগামী ৬ আগস্ট আবারও এই মামলার শুনানি হবে। ততদিন অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিল আদালত। এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বাকি আটটি এফআইআর-এর তথ্য আদালতে জমা দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করায় রাশ টানা নিয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
হাইকোর্টে আবারও স্বস্তি অভিষেকের (High Court)
বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতে কেন সেই নিয়ে ৬-৭ বছর পর মামলা দায়ের হচ্ছে? বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘একাধিক এফআইআর হয়েছে। আলাদা আলাদা করে মামলা না করে একটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আদালত তদন্তকারীকে বাধা দেবে না। কিন্তু পদক্ষেপ করার কী দরকার আছে? ঘটনার ছয়-সাত বছর কেন এবং কীভাবে একের পর এক এফআইআর দায়ের হচ্ছে?’
অভিষেকের আইনজীবীর দাবি (High Court)
অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ তার উত্তরে জানান, গত ৪-মে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রচুর এফআইআর হয়েছে এবং হচ্ছে। গত ২ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে ২৫ মে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিষেকের আইনজীবী আরও দাবি করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন দু’বার। তার কয়েক বছর পর তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এপ্রিল মাসে একটি মন্তব্য করেছিলেন। জুন মাসে সেই নিয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিষেকের আইনজীবী এদিন আদালতে আরও দাবি করেন, ২০১৭ সালের একটি ঘটনায় সাত বছর পর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ২০২০ সালে আমফানের ঘটনার ৬ বছর পর এফআইআর হয়েছে।
অভিষেকের আইনজীবী আদালতে আবেদন করেন, শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন, তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক মামলায় রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ভবিষ্যতে আদালতকে না জানিয়ে যাতে কোনও এফআইআর দায়ের না-করা হয়, তার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। অভিষেকের ক্ষেত্রেও তেমন নির্দেশ দেওয়া হোক। তখন রাজ্যের আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু বলেন শুভেন্দু অধিকারীর সময় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর পর্যবেক্ষণ (High Court)
এই আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, তখন রাজ্য সরকার প্রত্যেক এফআইআর-এর জন্য আলাদা আলাদা মামলা করতে বলেনি। যেটা বর্তমান রাজ্য সরকার বলেছে। তাই সব মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া যাবে না। তাছাড়া, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১১টির মধ্যে তিনটি মামলার নথি আদালতে জমা করেছে রাজ্য। তাই আপাতত ভবানীপুর, কালীতলা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে থানায় দায়ের হওয়া মামলাতেই অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।
এএসজি রাজু আদালতে পাল্টা যুক্তি (High Court)
এএসজি রাজু আদালতে পাল্টা যুক্তি দেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি একাধিক এফআইআর বাতিলের আবেদন করেছেন এভাবে এত এফআইআর একসঙ্গে একটি আবেদনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। একটি মামলাতেই সমস্ত এফআইআর জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রতি এফআইআর-এর জন্য একটি করে আলাদা মামলা করতে হয়। অভিষেকের আইনজীবী তখন আদালতে দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া সব এফআইআর-এর কপি তাঁদের হাতে নেই। তাই সব মামলার তথ্য আদালতে দেওয়া সম্ভব হয়নি। কয়েকটি এফআইআরের নাম দেওয়া হয়েছে, তবে সব তথ্য নেই। যেকটি মামলার উল্লেখ করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলিতে আপাতত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিক আদালত।
৬-৭ বছর পর অভিযোগ দায়েরে বিরক্তি প্রকাশ বিচারপতির
একটি ঘটনার ৬-৭ বছর পর অভিযোগ দায়ের করা নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। এদিন শুনানিতে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কী হতে পারে, সেটা ভেবে কোনও আর্জি করবেন না। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে আদালতও কোনও নির্দেশ দেবে না। তাই শুধুমাত্র যে এফআইআর দায়ের হয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুন।’
আরও পড়ুন: Kanyashree: বদলে গেল কন্যাশ্রীর নাম! তালিকায় সবুজ সাথীও!
৬ আগস্ট ফের শুনানি
অভিষেকের নাম না করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তখন প্রশ্ন তোলেন, কেন একজন স্পেশাল ট্রিটমেন্ট পাবেন? কেন তিনি আগাম জামিনের আবেদন করবেন না? তার উত্তরে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘একজন সাধারণ মানুষ এতদিন পর এভাবে এফআইআর করতে পারেন না। আগের মামলায় রক্ষাকবচ দিয়েছি। তার পর আবার এফআইআর হয়েছে। এগুলিতে রক্ষাকবচ দিলে অসুবিধা কোথায়? তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। মামলাকারীকে গ্রেফতার না করে তদন্তের নির্দেশ দিলে অসুবিধা কোথায়?’ তার উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী এসভি রাজু বলে, ‘মামলাকারী প্রভাবশালী ছিলেন বলেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা যায়নি। তাই এই আবেদনের মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতাই নেই।’ তারপরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য জানিয়ে দেন, এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ আগস্ট। ততদিন পর্যন্ত এই তিনটি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। এবং বাকি আটটি এফআইআর-এর তথ্য আদালতে জমা দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট। তবে ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করায় রাশ টানা নিয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।



