Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল ৪-১ গোলে মোহনবাগানকে (Mohun Bagan) একেবারে কুপোকাত করে দিয়েছে! কট্টর লাল-হলুদ সমর্থকরাও বোধহয় স্বপ্নে ভাবতে পারেননি যে খেলা এমন একতরফা হবে। পুরো টুর্নামেন্টে বাঘের মতো খেলে ফাইনালে উঠেও বিশাল কাইথদের অবস্থা দেখে মনে হলো মাঠে এগারো জন ফুটবলার নয়, এগারোটি আস্ত ঘুমন্ত কুম্ভকর্ণ নেমেছিল! প্রথমার্ধেই চার-চারটে গোল হজম করে সবুজ-মেরুন ডিফেন্স যেন একেবারে ‘রসগোল্লা’ হয়ে গেল।
ম্যাকলারেনের মিসম্যানেজমেন্ট আর কোচের গ্র্যান্ড কনফিউশন! (Mohun Bagan)
গোটা ডুরান্ড কাপে যে মোহনবাগান একের পর এক গোল করে মাঠ মাতাচ্ছিল, ফাইনালের দিন তাদের পায়ে যেন সর্ষে দানা নয়, আস্ত সিমেন্ট ঢেলে দেওয়া হয়েছিল! ডিফেন্স থেকে অ্যাটাক—সব জায়গাতেই একেবারে সাদামাটা পারফরম্যান্স। জেমি ম্যাকলারেন এমন সব সহজ সুযোগ মিস করলেন যে গ্যালারির সমর্থকরা নিজের মাথার চুল নিজেই ছিঁড়তে শুরু করেছিলেন। এদিকে কোচ পানোসের ট্যাকটিক্স দেখে তো ফুটবল পণ্ডিতদেরও মাথায় হাত! ফর্মে থাকা সাহাল আব্দুল সমাদকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে কোন মহা মূল্যবান রত্ন আবিষ্কার করতে চেয়েছিলেন কোচ? কেনই বা সুহেল ভাটকে নামানো হলো না? এই কোটি টাকার প্রশ্নগুলো এখন সবুজ-মেরুন তাঁবুতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।
প্লেয়ারদের চাঙ্গা করতে দেবাশিস দত্ত-র ব্রহ্মাস্ত্র (Mohun Bagan)
টিমের এই বেহাল দশা দেখে আর চুপ করে বসে থাকতে পারেননি মোহনবাগান ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস দত্ত। সোমবার, অর্থাৎ ডুরান্ডে হারের ঠিক পরের দিনই তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমন এক আজব ও দুর্দান্ত পরিকল্পনার কথা শোনালেন, যা শুনলে আপনিও বলবেন—”এ তো একেবারে সোনায় সোহাগা!” প্লেয়ারদের ফর্মে ফেরাতে এবং তাদের মধ্যে লড়াকু মানসিকতা জাগাতে আইএসএল-এর আগে নাকি ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয় নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় সিনেমা ‘এগারো’ দেখানো হবে!
সিনেমা দেখে কি সত্যি জাগবে মেরিনার্সের ঘুমন্ত আত্মা? (Mohun Bagan)
১৯১১ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে খালি পায়ে ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে মোহনবাগানের (Mohun Bagan) সেই অমর লড়াইয়ের ইতিহাস কার না জানা! ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া সেই ‘এগারো’ সিনেমা এখন দেবু বাবুর কাছে ড্রেসিংরুমের একমাত্র ভিটামিন। ম্যানেজমেন্টের আশা, সিনেমার পর্দায় সেই রক্তগরম করা সংলাপ আর পরাধীন ভারতের ফুটবল সংগ্রামের ইতিহাস দেখেই হঠাৎ ফুটবলারদের গায়ে আদ্যিকালের সেই শক্তি ভর করবে। এখন দেখার বিষয়, সিনেমার রিল দেখে আমাদের কোটি টাকার ফুটবলাররা মাঠে সত্যি সত্যিই ‘রিয়েল হিরো’ হয়ে ওঠেন, নাকি পপকর্ন খেতে খেতেই তাদের আইএসএল-এর বাকি মরসুমটা কেটে যায়!



