Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা মেট্রোর পার্পল লাইনে কাটল জট। জোকা-এসপ্ল্যানেড লাইনে ভূগর্ভস্থ অংশের নির্মাণে কাটল বড় বাধা। জমির জট কাটাতে নেপাল কনস্যুলেটের সঙ্গে মৌ স্বাক্ষর (Mou signed) করল কলকাতা মেট্রো এবং আরভিএনএল।
দুই পক্ষের মৌ সাক্ষর (Mou signed)
কলকাতা মেট্রোর পার্পল লাইনের (জোকা-এসপ্ল্যানেড করিডর) মোমিনপুর থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ অংশের নির্মাণকাজে থাকা এক দীর্ঘদিনের বড় বাধা আজ দূর হলো। বহু প্রতীক্ষিত এই বাধাটি ছিল নেপাল কনস্যুলেটের মালিকানাধীন একটি জমি নিয়ে। এই সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল) এবং নেপাল সরকারের কনসাল জেনারেলের দফতরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (Mou signed) সই হয়েছে।
আরও পড়ুন: Bengal Winter: শীতের ছন্দপতন! বাড়ল তাপমাত্রা, মন খারাপ শীতবিলাসীদের
এই চুক্তির ফলে মোমিনপুর-খিদিরপুরের মধ্যে পার্পল লাইনের র্যাম্প নির্মাণে জরুরি প্রয়োজন ছিল যে জমি, তার পথ প্রশস্ত হলো। সমঝোতা অনুযায়ী, নেপাল কনস্যুলেটের মালিকানাধীন ৪০৯.৫৩ বর্গমিটার জমি মেট্রোর নিকটবর্তী ৫২৬.৩৪ বর্গমিটার জমির সঙ্গে বিনিময় হবে।
জমি বিনিময়ে সম্মতি নেপালের (Mou signed)
গত তিন বছর ধরে এই জমি-জট কাটানোর প্রচেষ্টা চলছিল। এটি কেবল মেট্রো কর্তৃপক্ষ বা আরভিএনএলের উদ্যোগে নয়, বরং কূটনৈতিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (নেপাল), ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক, কলকাতা মেট্রো এবং আরভিএনএলের মধ্যে ২০২২ থেকে ২০২৫ সময়কালে কাঠমান্ডু, নয়া দিল্লি এবং কলকাতায় একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে নেপাল সরকার জমি বিনিময়ে সম্মতি জানায়। এর আগে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে একাধিক আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যা কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। দীর্ঘ তিন বছরের আইনি প্রক্রিয়ার পর সেগুলিরও নিষ্পত্তি হয়েছে (Mou signed)।
আরও পড়ুন:Kolkata Metro: ব্লু লাইনে ফের সিগন্যাল বিপর্যয়
আজকের এই ঐতিহাসিক সই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় আরভিএনএলের ভিক্টোরিয়া স্টেশন সাইটে অবস্থিত মডেল রুমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেপালের মাননীয় কনসাল জেনারেল শ্রী ঝক্কা প্রসাদ আচার্য, মেট্রো রেলওয়ের উপ-মুখ্য প্রকৌশলী শ্রী এস. কে. দুবেই এবং আরভিএনএলের চিফ প্রোজেক্ট ম্যানেজার শ্রী বিপিন কুমার। এছাড়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পরিচালক ও শাখা সচিবালয়ের প্রধান শ্রী আশীষ মিদ্ধাও উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে পার্পল লাইনের জোকা-মাঝেরহাট অংশটি চলমান। এই চুক্তি (Mou signed) মোমিনপুর-এসপ্ল্যানেড অংশের নির্মাণ নির্বিঘ্ন করতে নতুন গতির সঞ্চার করবে। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, মোমিনপুর–খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া ও পার্ক স্ট্রিট অভিমুখে টানেল বোরিং কাজ ইতিমধ্যেই ১০ জুলাই ২০২৫ থেকে শুরু হয়েছে। ‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’ নামে দুটি ইপিবি টানেল বোরিং মেশিন এই কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই করিডর সম্পূর্ণ হলে এটি এসপ্ল্যানেডে ব্লু ও গ্রিন লাইনের সঙ্গে ইন্টারচেঞ্জ দেবে, যা কলকাতার মেট্রো নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করবে।


