Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জিয়ারুল হক, জলপাইগুড়ি: ভুটান পাহাড় ও ডুয়ার্সে টানা বৃষ্টির (Murti River Erosion) জেরে সম্প্রতি জলস্ফীতি দেখা দিয়েছিল জলঢাকা, ডায়না, ন্যাওড়া, মূর্তি ও কুচিডায়না-সহ একাধিক নদীতে। জলস্তর কমতে শুরু করলেও এবার নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে মূর্তি নদীর তীব্র ভাঙন।
নদীর গতিপথ পরিবর্তন (Murti River Erosion)
গরুমারা জাতীয় উদ্যানের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া (Murti River Erosion) মূর্তি নদীর দক্ষিণ ধূপঝোরা এলাকায় নদীভাঙন ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর একপাশে রয়েছে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি রিসর্ট, হোমস্টে, বন দফতরের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, চা বাগান এবং গ্রামবাসীদের শ্মশানঘাট। টানা বৃষ্টির পর নদী গতিপথ পরিবর্তন করে এসব এলাকার দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে যেতে বসেছে এলাকার শ্মশানঘাট চা বাগান রিসোর্টের সীমানা।
মূর্তি নদীর ভাঙন (Murti River Erosion)
স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের অক্টোবর মাসের ভয়াবহ বন্যার পর থেকেই মূর্তি নদীর ভাঙন শুরু হয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেই ভাঙন আরও বেড়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক রিসর্টের সীমানা প্রাচীর, জমির খুঁটি-সহ বেড়া নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। নদীর গ্রাসে চলে যাচ্ছে চা বাগান, কৃষিজমি, শ্মশানঘাট এবং পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশ।
রিসর্ট মালিকদের অভিযোগ
রিসর্ট মালিকদের অভিযোগ, একসময় নদী তাঁদের জমি থেকে প্রায় ৬০ ফুট দূরে ছিল। কিন্তু ধারাবাহিক ভাঙনে এখন রেকর্ডভুক্ত জমির বড় অংশই নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে আগামী দিনে বহু রিসর্ট, হোমস্টে এবং পর্যটন কেন্দ্র অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। বর্তমানে মূর্তি নদীর ধারে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি রিসর্ট এবং হোমস্টে রয়েছে।
আরও পড়ুন: Kalyani: ভালোবেসে শহরের নাম রাখলেন কল্যাণী, বাংলার রূপকারের প্রেমের ইতিহাস!
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে ড্রেজিংয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা পর্যটন শিল্প এবং চা বাগান রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
এ বিষয়ে মাল মহকুমার মহকুমা শাসক উৎকর্স খাণ্ডাল জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।


