Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হুগলির উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র এবারের ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিশেষভাবে আলোচনায় (Sirsanya Bandopadhyay)। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনে প্রার্থী করেছে দলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-র ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পেশায় আইনজীবী শীর্ষণ্যর এটি প্রথম সরাসরি নির্বাচনী লড়াই, যদিও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রচারের সঙ্গে যুক্ত। কে টিভি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন এবার আর অন্যের জন্য নয়, নিজের জন্য ভোট চাইছেন তিনি।

“গিমিক নয়, মানুষের ক্ষোভ শুনতেই মাঠে নেমেছি”
শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Sirsanya Bandopadhyay) প্রচারে বেরিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “মানুষের কাছে যাচ্ছি শুধু হাত নাড়তে নয়, তাদের সমস্যাগুলো শোনার জন্য। এটা কোনো গিমিক বা শো-বাজি নয়।” তিনি স্বীকার করেছেন, বিদায়ী বিধায়ককে ঘিরে মানুষের মধ্যে কিছু ক্ষোভ রয়েছে। তবে সেই ক্ষোভকে অস্বীকার না করে, বরং মাথা নত করে তা মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বেশি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বাবার অভিজ্ঞতা—কতটা বাড়তি সুবিধা?
শীর্ষণ্যর রাজনৈতিক যাত্রায় তাঁর বাবা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-র দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে ধরা হচ্ছে। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের বহুবারের সাংসদ হিসেবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব এই এলাকায় সুস্পষ্ট। তবে শীর্ষণ্য নিজে দাবি করেছেন,
গত ১৭ বছরে তিনি সাতটি নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন কখনো বাবার জন্য, কখনো অন্যান্য প্রার্থীর জন্য। ফলে মাঠের অভিজ্ঞতা তাঁর নতুন নয়।

কোথায় জোর দিচ্ছেন প্রার্থী? (Sirsanya Bandopadhyay)
প্রচারে ঘুরে তিনি যে সমস্যাগুলি বেশি শুনছেন, সেগুলিকে তিনি দু’ভাগে ভাগ করেছেন— দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা: ড্রেনেজ ও সিউয়ারেজ ব্যবস্থার ঘাটতি, স্থায়ী পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন, এমন উন্নয়ন যা ১৫-২০ বছর টেকসই হবে। স্বল্পমেয়াদি সমস্যা: হাসপাতালের আধুনিক যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যমান পরিষেবাকে আরও উন্নত করা, যেখানে পরিষেবা নেই, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। তার বক্তব্য, “যেটা আছে সেটাকে better করতে হবে, যেটা নেই সেটা provide করতে হবে।”
মার্জিন বাড়ানোর লক্ষ্য (Sirsanya Bandopadhyay)
শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য শুধু জয় নয়, বরং আগের তুলনায় বেশি ভোটে জয়লাভ। তিনি বলেছেন, আগের নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন, এবার সেই মার্জিন আরও বাড়বে বলেই তাঁর বিশ্বাস। এছাড়া তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন, তাঁর মতে, এই আসনে মূল লড়াই বিদায়ী বিধায়কের পারফরম্যান্সের সঙ্গে, আর দ্বিতীয়-তৃতীয় স্থানের জন্য বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে।

আইনজীবীদের বাড়তি উপস্থিতি—নতুন ট্রেন্ড?
এই নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে প্রায় ১১ জন আইনজীবী বিভিন্ন দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন। শীর্ষণ্যর মতে, “বাংলার মানুষ আইনসভায় আইনজীবীদের পাঠালে সেটা ইতিবাচক দিক হবে, আর উত্তরপাড়া সেই পথ দেখাতে পারে।”
আরও পড়ুন: Badminton Ayush Shetty: রূপোয় থামতে হল আয়ুষকে!
সহকর্মীদের সমর্থন ও সংগঠনের শক্তি
প্রচারে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত রয়েছেন সহকর্মী ও আইনজীবী বন্ধুরা। কোর্টের কাজ শেষ করেও তারা প্রচারে যোগ দিচ্ছেন, এটিকে তিনি নিজের বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন। তার দাবি, তৃণমূলের কর্মীরা সারা বছর মানুষের পাশে থাকেন, আর সেই ধারাবাহিক কাজের ফলই এখন জনসমর্থন হিসেবে ফিরে আসছে। উত্তরপাড়া, কোন্নগর ও আশপাশের এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা পরিষ্কার, যেভাবে মানুষ তাঁর বাবাকে প্রয়োজনে পাশে পেয়েছেন, তিনিও সেইভাবেই মানুষের পাশে থাকবেন।



