Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নানা পটেকরের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে ভারতীয় চলচ্চিত্রে (Nana Patekar)। ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর সহকর্মী ও বন্ধুদের স্মৃতিচারণে উঠে আসছে পর্দার বাইরের এক অন্য নানা—সহজ, আন্তরিক এবং বন্ধুবৎসল মানুষ।

পর্দার ‘নানা’, বাস্তবে ছিলেন একেবারেই অন্য মানুষ (Nana Patekar)
নানা পটেকরের অভিনয় মানেই তীব্রতা, সংলাপের শক্তি এবং চরিত্রের গভীরে পৌঁছে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা। হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে তিনি একাধিক স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন। ‘ক্রান্তিবীর’, ‘পরিন্দা’, ‘নটসম্রাট’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের মনে অমলিন।
আশিস বিদ্যার্থীর স্মৃতিতে ‘গ্রেট হিউম্যান বিইং’ (Nana Patekar)
নানা পটেকরের প্রয়াণে সহশিল্পী আশিস বিদ্যার্থীর স্মৃতিচারণেও উঠে এসেছে তাঁর মানবিক দিক। নানা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি তাঁকে একজন ‘গ্রেট হিউম্যান বিইং’ এবং অসাধারণ অভিনেতা হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁর কথায়, নানার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এবং একসঙ্গে কাটানো কিছু মিষ্টি মুহূর্তই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় স্মৃতি।
দেবশ্রীর সঙ্গে ছিল গভীর বন্ধুত্ব (Nana Patekar)
অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে নানা পটেকরের বন্ধুত্ব ছিল দীর্ঘদিনের। একই বছরে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার সুবাদে তাঁদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। নানা সেরা অভিনেতার সম্মান পেয়েছিলেন, আর দেবশ্রী পেয়েছিলেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। সেই সূত্রেই তৈরি হয়েছিল এক আন্তরিক বন্ধুত্ব।
তপন সিনহার সঙ্গে দেখা করার আবদার (Nana Patekar)
দেবশ্রীর স্মৃতিতে নানার একটি ঘটনা বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে। কলকাতায় এসে নানা তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন তপন সিনহার সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে। দেবশ্রী তাঁকে নিয়ে যান পরিচালকের কাছে। সেখানে গিয়ে তপন সিনহার পায়ের কাছে বসে পড়ে নানা নাকি অনুরোধ করেছিলেন, তাঁকে একটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত তপন সিনহা তাঁকে অভিনয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।
‘আজব গাঁয়ের আজব কথা’ হয়ে উঠল অপূর্ণ অধ্যায়
পরবর্তীতে তপন সিনহার ‘আজব গাঁয়ের আজব কথা’ ছবিতে নানার অভিনয়ের পরিকল্পনা থাকলেও নানা অন্যত্র শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় সময়ের জটিলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সেই চরিত্রে অভিনয় করেন দেবেশ রায়চৌধুরী। দেবশ্রীর স্মৃতিতে ঘটনাটি আজও যেন নানার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অপূর্ণ অধ্যায়।
আরও পড়ুন: Nana Patekar: খলনায়ক থেকে কিংবদন্তি “নানা”, জানুন বর্ষীয়ান অভিনেতার অজানা গল্প
‘ভালো শিল্পী, ভালো মানুষ’—দেবশ্রীর শেষ শ্রদ্ধা
নানার আকস্মিক প্রয়াণে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন দেবশ্রী। তাঁর কথায়, নানার মধ্যে কোনও তারকাসুলভ অহংকার ছিল না। বরং বন্ধুর মতো সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশতেন। কলকাতায় এসে দেবশ্রীর সঙ্গে ঘোরা, আড্ডা দেওয়া—সবই আজ স্মৃতির অংশ। একের পর এক প্রিয় শিল্পীকে হারানোর বেদনার মধ্যেই দেবশ্রীর প্রার্থনা, যেখানেই থাকুন নানা শান্তিতে থাকুন, আর ফের যদি জন্ম নেন, তবে যেন শিল্পী হিসেবেই ফিরে আসেন।



