Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার তার ছাপ পড়ল কলকাতার সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র নন্দন চত্বরেও (Nandan)। নন্দন-রবীন্দ্রসদন চত্বরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকের উপরে সাদা রং করে দেওয়ার ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তবে একই চত্বরে অক্ষত রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলক। ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই কি এই পরিবর্তন, নাকি এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা?

ইতিহাসের সাক্ষী নন্দন (Nandan)
নন্দনের ইতিহাসের সঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। ১৯৮০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর হাত ধরে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। প্রায় পাঁচ বছর পর, ১৯৮৫ সালে সত্যজিৎ রায়ের হাতে উদ্বোধন হয় এই চলচ্চিত্রকেন্দ্রের। এরপর থেকে নন্দন শুধু সিনেমা প্রদর্শনের জায়গা নয়, বরং বাংলার চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা হয়ে ওঠে।
২০১৬-তে যোগ হয়েছিল মমতার নাম (Nandan)
২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর ২০১৬ সালে নন্দন-রবীন্দ্রসদন চত্বরে সৌন্দর্যায়নের কাজের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক বসানো হয়েছিল। সেই ফলকই এবার সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলকটি আগের মতোই রয়েছে।
চলচ্চিত্র উৎসবের আগে নতুন বিতর্ক (Nandan)
এবার রাজ্যে ফের ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হতে চলেছে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আর সেই উৎসব শুরুর আগেই নন্দন চত্বরে মমতার নামের ফলক মুছে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।
মিঠুনের প্রশ্নে আরও বাড়ল বিতর্ক
ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা তথা কিফ-এর চিফ অ্যাডভাইসার মিঠুন চক্রবর্তীর মন্তব্যও বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন—‘এখন আর কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম দেখতে চান?’ তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক তরজাও আরও তীব্র হয়েছে।
আরও পড়ুন: Government Job: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে রাজ্য, মিলবে গ্রুপ-ডি চাকরি
তৃণমূলের অভিযোগ, ‘স্বৈরাচারী’ শাসন
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নামাঙ্কিত ফলক সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথেই হাঁটছে এবং রাজ্যে ‘স্বৈরাচারী শাসন’ কায়েমের চেষ্টা চলছে।



