Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বহু (Nanibala Devi) পুরুষ বিপ্লবীর নাম উচ্চারিত হলেও, তাঁদের পাশে নিঃশব্দে লড়াই করা সাহসী নারীদের কথা অনেকটাই আড়ালে থেকে গিয়েছে। ননীবালা দেবী তাঁদেরই একজন। বাংলার প্রথম মহিলা স্টেট প্রিজনার হিসেবে যাঁর জীবন ছিল ত্যাগ, সাহস ও অসীম মানসিক শক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে যোগাযোগ (Nanibala Devi)
১৮৮৮ সালে হাওড়ার বালিতে জন্ম ননীবালার (Nanibala Devi) । মাত্র ১১ বছর বয়সে বিয়ে এবং কয়েক বছরের মধ্যেই স্বামীর মৃত্যু তাঁর জীবনকে আমূল বদলে দেয়। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে তিনি আশ্রয় নেন রামকৃষ্ণ মিশনে। সেখান থেকেই বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়।
পেশোয়ারে গ্রেফতার (Nanibala Devi)
যুগান্তরের বিপ্লবীদের সহযোগী হিসেবে তিনি নানা গোপন দায়িত্ব পালন করেন। কখনও ছদ্মবেশে জেলে গিয়ে বন্দি বিপ্লবীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন, কখনও চন্দননগরে বিপ্লবীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। পুলিশের নজর এড়িয়ে পেশোয়ার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেখানেই গ্রেফতার হন।
গ্রেফতারের পর শুরু হয় ভয়াবহ নির্যাতন। কাশী থেকে তাঁকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে আনা হয়। কিন্তু অত্যাচার, ভয় কিংবা দীর্ঘ জেরাতেও তাঁর মুখ থেকে কোনও গোপন তথ্য আদায় করতে পারেনি ব্রিটিশ পুলিশ। গোপনাঙ্গে লঙ্কাবাটা লাগিয়ে দেওয়া হয়, তাও মুখ খোলেননি তিনি। এর প্রতিবাদে তিনি টানা ২১ দিন অনশন করেন।
আরও পড়ুন: LPG E KYC: ১৫ অগস্টের মধ্যে LPG e-KYC বাধ্যতামূলক, না করলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
বিস্মৃত ইতিহাস
১৯১৯ সালে মুক্তি পেলেও সমাজ তাঁকে আপন করে নেয়নি। জীবনের শেষ পর্ব কাটে চরম দারিদ্র্য ও নিঃসঙ্গতায়। ১৯৬৭ সালে নীরবে তাঁর মৃত্যু হয়। ইতিহাস হয়তো তাঁকে যথেষ্ট মনে রাখেনি, কিন্তু ননীবালা দেবীর সাহস আজও স্বাধীনতার সংগ্রামের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।


